kalerkantho


গুপ্তধন

রবিনহুডের আংটি!

নাবীল অনুসূর্য

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রবিনহুডের আংটি!

রাজা জনের রাজত্বের সময় নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড বনে ঘাঁটি ছিল রবিনহুডের। সেখান থেকেই আশপাশের বড়লোকদের ঘাঁটিতে হানা দিতেন। অবশ্য তাঁর সম্পর্কে নিশ্চিত করে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। তাঁকে ঘিরে আছে হাজারো রহস্য আর কিংবদন্তির গল্প।

এ সবই তো শত শত বছর আগের কথা। তবে সম্প্রতি আবারও তাঁর বড়লোকের সম্পদ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। না, নতুন কোনো রবিনহুডের আবির্ভাব ঘটেনি কিংবা রবিনহুড নিজেও কবর থেকে উঠে আসেননি। অবশ্য রবিনহুডের কবর যে কোনটা, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। ১৭০২ সালে পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের কার্কলে প্রায়োরিতে একটা কবর আবিষ্কৃত হয়, যার এপিটাফে লেখা ছিল রবিনহুডের নাম। কিন্তু সেটাই যে আসল রবিনহুড, তার আর কোনো প্রমাণ মেলেনি। তো সম্প্রতি যেটা ঘটেছে, এক শখের ট্রেজার হান্টার শেরউড বনে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পেয়ে গেছেন রবিনহুডের একটা আংটি।

আংটিটার বাজারমূল্য বেশ চড়া। স্থানীয় এক নিলামকারীর অনুমান, নিলামে ওটার দাম উঠতে পারে এমনকি ৭০ হাজার ইউরো পর্যন্ত (৮৭ হাজার মার্কিন ডলার)।

শখের এই ট্রেজার হান্টারের নাম মার্ক থম্পসন। ৩৪ বছর বয়সী থম্পসন পেশায় একজন ট্রাকচালক। মোটে বছর দেড়েক হলো শখের বশে গুপ্তধন খোঁজার কাজ শুরু করেছেন। আর শেরউডে বনে সেদিন ঢুকেছিলেন মাত্র মিনিট বিশেক আগে। একটা মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, বনে ঘুরতে আসা কারো পকেট থেকে পরে যাওয়া ধাতব মুদ্রা বা ফেলে দেওয়া ধাতুর তৈরি কোনো কিছু যদি পাওয়া যায়, সেই আশায়। এর বদলে যা পেলেন, তার কথা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি কোনো দিন।

মেটাল ডিটেক্টরটা জানান দেওয়ার পর, বেলচা দিয়ে ওখানকার মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন। ওপরের বালু-মাটি একটু সরিয়ে গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তেই হঠাৎ চোখে পড়ল সোনার ঝিলিক। ঝিকমিকিয়ে ওঠা সোনার আংটিটা তুলে নিয়ে বালু-মাটি ঘষে পরিস্কার করে আংটিটার রূপ দেখে তো তাঁর চোখ চড়কগাছ! সোনার তৈরি আংটিটায় একটি নীলকান্তমণি বসানো। আর দুই পাশেই নকশা খোদাই করা। একপাশের নকশায় খোদাই করা শিশু যিশুর ছবি। অন্য পাশে এক পবিত্র নারীর প্রতিকৃতি।

পরে তিনি আংটিটা দেখান ব্রিটিশ মিউজিয়ামের লোকাল লায়াসন অফিসার ডট বাফটনকে। তাঁর প্রাথমিক মূল্যায়ন, আংটিটা মধ্যযুগের, সম্ভবত তেরো-চৌদ্দো শতকের। সময় ও প্রাপ্তিস্থান মিলিয়ে তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আংটিটা শেরউড বনের রাজা রবিনহুডের লুণ্ঠিত ধন-সম্পদেরই অংশ। আর রবিনহুডের মান রাখতেই যেন সেটি পেলেন একজন গরিব ট্রেজার হান্টার। এখন সেটি আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। সেখানে আংটিটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাতে যদি প্রাথমিক এই অনুমানগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সত্যিই রবিনহুডের কল্যাণে কপাল খুলে যাবে মার্ক থম্পসনের। আংটিটা হয়তো আর নিলামে উঠাবেন না তিনি। তবে জাদুঘরে দিয়ে দিলেও, আবিষ্কারক হিসেবেই মোটা অঙ্কের টাকা পাবেন সেখান থেকেও।

মানে কপাল খুলে গেছে মার্ক থম্পসনের। আর এটাও জানা গেল, ঢেঁকি যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, তেমনি রবিনহুড স্বর্গে বসেও গরিবদের মধ্যে ধন-সম্পদ বিলানো এখনো বন্ধ করেননি।


মন্তব্য