kalerkantho


গাছের গুঁড়ির ভেতর বাড়ি

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গাছের গুঁড়ির ভেতর বাড়ি

এক রাতে লেন মুর ভীষণ ঝড়ের কবলে পড়লেন। আশপাশে কোনো বাড়িঘরও নেই। তখন আশ্রয় নিলেন একটি দৈত্যাকৃতির রেডউড গাছের গুঁড়ির ফোকরে। বাইরে ভীষণ ঝড়ে দুনিয়া লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছিল। অথচ তিনি ওখানে বেশ আরামেই রাতটা পার করে দিলেন। আর রেডউড গাছগুলোও যেমন বিরাট হয়, সে গাছের গুঁড়ির ফোকরে আশ্রয় নিলে গায়ে ঝড়ের ঝাপ্টা লাগার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ওটা পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছ তো বটেই, সবচেয়ে পেটমোটা গাছের তালিকায়ও আছে দুই নম্বরে। আর সে রাতেই তাঁর মাথায় আসে এই বাড়িটা বানানোর ভাবনা। স্রেফ একটা রেডউড গাছের গুঁড়ি দিয়ে বানানো হবে একটি বাড়ি।

পরে তিনি সত্যিই সেই বাড়িটা বানিয়েও ফেললেন ১৯৩৮ সালে। একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে বানানো হলো আস্ত একটি বাড়ি।

আসলে ওই এক গুঁড়ি দিয়েই বানানো গিয়েছিল চার-চারটি বাড়ি। গুঁড়ির ভেতরটা ফাঁকা করে, ওখানেই করা হয়েছে থাকা-খাওয়া-শোবার ব্যবস্থা। বাড়িগুলো অবশ্য ভ্রাম্যমাণ। নিচে চাকা লাগানো আছে, বাড়িসমেতই ঘুরে বেড়ানো যায়। সেই বাড়িগুলোরই একটির মালিক এখন রবার্ট রিপ্লি। এখন আছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। বাড়িটি বানাতে ব্যবহৃত গুঁড়ির অংশটা লম্বায় প্রায় ৩৩ ফুট, আর পুরুত্ব ১৩ ফুট। ভেতরটা খালি করার পরও সেই গুঁড়ির ওজন প্রায় ৪২ টন। সেই বিশাল গুঁড়ির ভেতরেই বানানো হয়েছে লম্বা ভ্রাম্যমাণ বাড়িটা। দুই পাশের দুই দরজার মাঝে আছে বেডরুম, লিভিংরুম, ডাইনিংরুম আর রান্নাঘর। আর পর্যটকরা চাইলেই এক ডলার দিয়ে বাড়িটার ভেতরে ঘুরে আসতে পারেন।

নাবীল অনুসূর্য


মন্তব্য