kalerkantho


বিচিত্রা

ডাঙার মাছ লাঙফিশ!

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ডাঙার মাছ লাঙফিশ!

কৈ মাছ হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারে, ভাগ্যিস বঙ্গদেশে লাঙফিশ নেই! না হলে প্রবাদবাক্যে তাদের কপাল পুড়ত। কারণ মিঠা পানির এই মাছ বিশেষভাবে পরিচিত ডাঙায় বেঁচে থাকার ক্ষমতার জন্য। পানি ছাড়া বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে!

লাঙফিশদের দেখা পাওয়া যায় মূলত আফ্রিকায়। এর শ্বসনযন্ত্রের গঠন আট-দশটি মাছের মতো নয়। এরা সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারে। মাটিতে বাস করা প্রাণীদের শ্বাস গ্রহণের মতোই। পানিতে থাকার সময়ও শ্বাস নেওয়ার জন্য বারবার তাদের ভেসে উঠতে হয়। সাধারণত অগভীর পানিতে, যেমন খাল-বিল, জলাভূমিতে থাকতে পছন্দ করে। তবে বড় বড় লেকেও এদের দেখা মিলেছে। বর্ষাকালে চারদিকে পরিমিত পানি থাকায় অন্যান্য মাছের মতোই স্বাভাবিক আচরণ করে। পানিতে সাঁতরায় আর ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী ধরে খায়।

তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে যাওয়ার পরই থকথকে কাদামাটি খুঁড়ে নিজেদের মাটির গভীরে পুঁতে ফেলে। নিরাপদ গভীরতায় যাওয়ার পর লাঙফিশ তাদের চামড়া থেকে এক ধরনের আঠালো পদার্থ বের করে আনে। ফলে শরীরের চারপাশে রেশমগুটির মতো শক্ত আবরণ তৈরি হয়। শ্বাস নেওয়ার জন্য শুধু মুখটি ওই আবরণের বাইরে থাকে। দীর্ঘ শীতনিদ্রায় যাওয়ার এই সময় তারা দেহের বিপাক প্রক্রিয়া দারুণভাবে কমিয়ে ফেলে।

বর্ষাকাল আবার শুরু হলে কাদামাটি নরম হয়ে যাওয়ার পর লাঙফিশ মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে। আফ্রিকার বাইরে দক্ষিণ আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়ায়ও এদের দেখতে পাওয়া যায়। আফ্রিকার স্থানীয় বাসিন্দারা মাটি খুঁড়ে এদের বের করে আনে। তাদের কাছে এটি বেশ মুখরোচক খাবার।

              শিমুল খালেদ


মন্তব্য