kalerkantho


দরজার ওপাশে

এক পাকে নেদারল্যান্ডস

ধরা যাক আপনি নেদারল্যান্ডসে গেছেন ঘুরতে, হাতে সময় কম, এত কম সময়ে গোটা দেশ ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। কী করবেন? খুব সোজা, চলে যান মাদুরোডামে। কেন? বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত গালিব চৌধুরী

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এক পাকে নেদারল্যান্ডস

মাদুরোডাম একটি মিনিয়েচার পার্ক। বাস্তব কোনো স্থাপনার অনুকরণে খুদে আকারের মডেল বা রেপ্লিকা দিয়ে সাজানো পার্কই মিনিয়েচার পার্ক।

এখানে সব কিছুই ছোট, এমনকি গাছগুলো পর্যন্ত। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এমন বেশ কিছু মিনিয়েচার বা রেপ্লিকা পার্ক। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাতগুলোর একটি হলো নেদারল্যান্ডসের মাদুরোডাম।

মাদুরোডামে গেলে দেখতে পাবেন গোটা নেদারল্যান্ডসটাই। এখানে দেশটির সব দ্রষ্টব্য স্থানের খুদে সব রেপ্লিকা তৈরি করে রেখে দেওয়া হয়েছে। বাস্তব স্থাপনার ২৫ ভাগের এক ভাগ মাপের এসব নিখুঁত রেপ্লিকা দেখে তাক লেগে যাবে। আছে নেদারল্যান্ডস রাজকীয় প্রাসাদ, সরকারি ভবন, নেদারল্যান্ডসের পুরনো গির্জা, নৌ চলাচলের চ্যানেল, টিউলিপ ফুলের বাগান,  ক্ষুদ্রাকার যানবাহন, বিমানবন্দর, এমনকি নেদারল্যান্ডসের সব থেকে বিখ্যাত প্রতীক, হাওয়া কল বা উইন্ড মিল পর্যন্ত। দেখে মনে হবে, জীবন্ত কোনো শহর হঠাৎ জাদুমন্ত্রবলে ছোট হয়ে গেছে। এখানে রয়েছে চার হাজার মিটার রেল আর ট্রাম লাইন।

সেগুলোতে চলছে অনেক রেলগাড়ি। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকে নানা দেশের ৩২টি বিমান, পাঁচ হাজার গাছ শহরটাকে মুড়ে রেখেছে, রাতে ঝলমল করে জ্বলে ৫০ হাজার বাতি, গোটা শহরজুড়ে রয়েছে অসংখ্য খালের এক জটিল নেটওয়ার্ক, যাতে রয়েছে ২৭টি সেতু, চলাচল করে ৫৮টা নৌকা। তবে সবই মিনিয়েচার মডেল।

১৯৫২ সালে সেইফনিঙা এলাকায় এই রেপ্লিকা শহর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিখ্যাত শহর দ্য হেগের খুব কাছেই এর অবস্থান। নামকরণ করা হয়েছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত গেরিলা নেতা জর্জ মাদুরোর নামে। জর্জ মাদুরো জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বু ফন দার স্টার্প নামের এক ডাচ মহিলা এই পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পার্কের আয় থেকে নিজের স্যানাটোরিয়ামের রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

মাদুরোডামের মতো একটি মিনিয়েচার পার্কের দেখভাল করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। এর প্রতিটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বাস্তবের স্থাপনাগুলোর নিখুঁত অনুকরণে। শুধু তা-ই নয়, গোটা পার্কজুড়ে ছড়িয়ে আছে ১৬ হাজার মিনিয়েচার মানুষের মডেল। এগুলোর দেখভালও করতে হয়। এমনকি শীতকালে এসব খুদে মানুষের গায়ে খুদে খুদে শীতের পোশাক পর্যন্ত চড়ানো হয়, আবার গরমকালে তাদের পরনে থাকে হালকা কাপড়। শুধু তা-ই নয়, নেদারল্যান্ডসে আগত অভিবাসীদের মিনিয়েচারও এখানে রাখা আছে, যাতে কৃত্রিম এই পার্কে ফুটে ওঠে হুবহু বাস্তবের নেদারল্যান্ডসের ছবি। ১৫ ইউরোর টিকিট কেটে যে কেউ একনজর দেখে আসতে পারেন খুদে শহরটি।

মাদুরোডাম দেখতে প্রতিবছর গড়ে ভিড় জমায় অন্তত সাড়ে সাত লাখ মানুষ। বিখ্যাত এই পার্কে অনুপ্রাণিত হয়েই ১৯৮৩ সালে বার্সেলোনায় প্রতিষ্ঠা করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিনিয়েচার পার্ক। শুধু তা-ই নয়, ডিজনিল্যান্ডেও মিনিয়েচার প্রজেক্টগুলো তৈরি করা হয়েছে মাদুরোডামের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে।

প্রচুর পর্যটকের উপস্থিতির কারণে মাদুরোডামের আয়ের অঙ্কটা বিশাল। আর এই বিশাল অর্থের পুরোটাই পাঠিয়ে দেওয়া হয় নানা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।


মন্তব্য