kalerkantho


পেরেকের খোঁজে জেবাকুমার

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পেরেকের খোঁজে জেবাকুমার

২০১২ সালের কথা। বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলাটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল প্রকৌশলী বেনেডিক্ট জেবাকুমারের জন্য। প্রায় দিনই ব্যাঙ্গালুরুর রিং রোডের নির্দিষ্ট একটা জায়গায় পড়ে থাকা পেরেকের খোঁচায় ফুটো হয়ে যাচ্ছিল তাঁর গাড়ির চাকা। ফলে কোথায় অফিস, কোথায় কী—সোজা ছুটে যেতে হচ্ছিল মেকানিকের কাছে। বেশ কয়েকবার এমন হওয়ার পর একটু খটকা লাগল জেবাকুমারের। চাকা পাংচার হতেই পারে, কিন্তু তাই বলে এতবার? তাও আবার একই জায়গায়। সন্দেহটা সত্যি কি না পরীক্ষা করে দেখতে একদিন তল্লাশি চালালেন পুরো রাস্তায়। আর তখনই খেয়াল করলেন, রাস্তার মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক পেরেক।

কে রেখেছে এই পেরেকগুলো? একটু ভালোভাবে অনুসন্ধান চালাতেই জেবাকুমারের বুঝতে বাকি রইল না কাজটা রাস্তার ধারের গাড়ি মেরামতের দোকান মালিকদের। ব্যবসা যাতে ভালো চলে সে জন্য পেরেক ফেলে গাড়ির চাকা ফুটো করে দেওয়ার এমন অভিনব বুদ্ধি বের করেছে। জেবাকুমার অভিযোগ করেন পুলিশের কাছে।

হেসেই উড়িয়ে দিল তারা। কিন্তু হার মানার পাত্র নন জেবাকুমার। নিজেই নেমে পড়লেন পেরেক কুড়োতে। পরের পাঁচ বছর সময় পেলেই রিং রোডে পথের পেরেক কুড়িয়েছেন। ফল হলো, এ কয় বছরে তাঁর কাছে পেরেক জমা হয়েছে প্রায় ৫০ কেজি।

প্রথম দিকে হাত দিয়েই পেরেক কুড়োতেন। কিন্তু পড়ে লোহার রডে চুম্বুক লাগিয়ে সেটা দিয়ে পেরেক কুড়ানো শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। তারপর রিং রোডের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে পেরেক সরান। একই কাজ করেন অফিস শেষে ফেরার পথেও।

পুরো বিষয়টি অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হলেও পেরেক খোঁজায় ক্লান্তি নেই ৪৪ বছরের জেবাকুমারের। নিজের গাড়ি ছেড়েছেন অনেক আগে। এখন একটা বাইক নিয়ে রাস্তায় পেরেকের সন্ধান করেন। মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে ফেসবুকে ‘মাই রোড, মাই রেসপনসিবিলিটি’ নামে একটি পেইজও খুলেছেন।

 

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


মন্তব্য