kalerkantho


অন্য রকম

সংবাদপত্রের বাড়ি

শিমুল খালেদ

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সংবাদপত্রের বাড়ি

মানুষ কত শখ করেই তাদের বাড়ি বানায়! একেকটি বাড়িতে ফুটে ওঠে বাড়ির মালিকের সাধ আর সাধ্যের প্রতিচ্ছবি। এগুলোর মধ্যে অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য কিছু কিছু বাড়ি নজর কাড়ে মানুষের।

যুক্তরাষ্ট্রের মেসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের রকপোর্টে আছে এমনই একটি বাড়ি। পিজন হিল রোড ধরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে ‘পেপার হাউস’ নামের বাড়িটি। এমনিতে এটা দেখতে অর পাঁচ-দশটি একতলা সুন্দর দালানের মতোই। তবে আলাদা করে চেনার কারণ, বাড়িটি বানানো হয়েছে সংবাদপত্রের কাগজ দিয়ে! অদ্ভুত শোনালেও এমনই শখ চেপেছিল এলিস স্টেনম্যান নামের এক ভদ্রলোকের মাথায়। পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার স্টেনম্যান তাঁর শখের পেপার হাউসের নির্মাণ শুরু করেছিলেন ১৯২২ সালে। গ্রীষ্মকালীন আবাসস্থল হিসেবে এটি বানানো আরম্ভ করেছিলেন অন্য দশটি বাড়ির মতোই। ছাদ ও মেঝে তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কাঠের ফ্রেম। তবে ঘরের চারপাশের দেয়াল বানানোর সময় তাঁর মাথায় আসে ভিন্ন চিন্তা। ভাবলেন, পুরো দেয়ালই পুরনো পত্রিকার কাগজ দিয়ে তৈরি করলে কেমন হয়! আর তাই একটির পর একটি পত্রিকা আঠার প্রলেপ দিয়ে জুড়ে দিতে লাগলেন। পত্রিকার স্তর পুরো এক ইঞ্চি হওয়ার পর দুই পাশ বার্নিশ করলেন সুন্দরভাবে। শুধু দেয়াল বানিয়েই থামলেন না। বাড়ির ভেতরের প্রায় প্রতিটি জিনিসই বানালেন পত্রিকার কাগজ দিয়ে। এর মধ্যে চেয়ার-টেবিল যেমন আছে, আছে দরজা-জানালার পর্দা, এমনকি দেয়ালঘড়িও। কেবল তাঁর সাধের পিয়ানোটি ছিল কাঠের। তবে অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে মিল রাখতে সেটিও পত্রিকার কাগজে মোড়ানো ছিল। ঘরের ভেতর কাগজের সংস্পর্শ ছাড়া একমাত্র জিনিসটি ছিল রান্নাঘরের চুলা।

স্টেনম্যানের এমন খেয়াল চাপার কারণ কী, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউই। হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন সহজলভ্য জিনিসেই ভরসা করেছিলেন। এমনকি কাগজে ব্যবহার করা আঠাও ছিল তার হাতে বানানো। পানির সঙ্গে ময়দা আর ছাল ছাড়ানো আপেল মিশিয়ে আঠা তৈরি করা হয়েছিল। তবে স্টেনম্যানের ইচ্ছা ছিল, দেয়ালগুলো পরে কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দেবেন। কিন্তু প্রথম শীতকাল চলে যাওয়ার পর দেখলেন, কাগজের দেয়াল ভালোভাবেই শীত সামলানোর কাজটি করেছে। তাই তাঁর কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হলো। বাড়িটি বানাতে সময় লেগেছিল প্রায় দুই বছর। তারপর সেই বাড়িতে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত বসবাস করেছিলেন। তবে সেখানে কাগজ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে গেছেন অন্তত ২০ বছর ধরে। তিনি ব্যবহার করেছিলেন প্রায় এক লাখ পত্রিকার কাগজ।

৯০ বছরের মতো টিকেছিল বাড়িটির কাগজের দেয়ালগুলো। এরপর ওপরের দিকের কাগজ আলগা হয়ে খসে পড়তে থাকে। পুরনো দিনের পত্রিকাগুলো একসময় দর্শনার্থীদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়। কারণ পত্রিকার কাগজগুলোতে ছিল প্রায় শতবর্ষ আগের সাড়া জাগানো নানা ঘটনার খবর। ১৯৪২ সালে স্টেনম্যান মারা যাওয়ার পর পেপার হাউসকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।


মন্তব্য