kalerkantho


জাদুর রহস্য

স্ট্যাচু অব লিবার্টি গায়েব!

প্রাচীনকাল থেকেই নানা ধরনের জাদু বা ম্যাজিক দেখিয়ে আলোড়ন তুলেছেন জাদুকররা। এমনই কিছু জাদু নিয়ে এই ধারাবাহিক আয়োজন। বর্ণনা করেছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



স্ট্যাচু অব লিবার্টি গায়েব!

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টির কথা কে না জানে। ২২৫ টন ওজনের দেড় শ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য গোটা বিশ্বেই পরিচিত। আর জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ড কিনা ১৯৮৩ সালের এপ্রিলে এই মস্ত ভাস্কর্যটিই গায়েব করে দিলেন, তা-ও একদল দর্শকের সামনে। অসংখ্য মানুষ টেলিভিশনেও থ হয়ে দেখে, কিভাবে আমেরিকার গর্ব তাদের চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল!

স্ট্যাচু অব লিবার্টির অবস্থান নিউ ইয়র্কের লিবার্টি দ্বীপে। সংগত কারণেই এই জাদু কোনো স্টেজে দেখানো সম্ভব নয়। বিখ্যাত এই জাদু দেখানো হয়েছিল রাতের বেলায়। বেশ কিছু দর্শকের সামনে প্রথমে দুটি উঁচু পিলারের সাহায্যে বিরাট একটি পর্দা টানানো হয়, এরপর যখন সেই পর্দা নামানো হলো, দর্শকরা দেখলেন তাঁদের সামনে মূর্তিটি আর নেই, কেবল বেদিতে যে আলোগুলো জ্বলছিল, সেগুলো আছে। বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়, দর্শকদের সামনে আবার বিরাট সেই পর্দাটি টানানো হয়। খানিক পর পর্দা নামাতেই দর্শকরা আবার জায়গামতোই স্ট্যাচু খুঁজে পেলেন। রীতিমতো তাজ্জব ঘটনা বৈকি।

 

অন্য অনেক বিখ্যাত জাদুর মতো এই জাদুতেও আসলে বিশেষ রহস্যের কিছু নেই।

দর্শকরা এবং পর্দা টানানো হয়েছিল যে পিলার দুটিতে, সেই পিলারগুলোও দাঁড়িয়ে ছিল যন্ত্রচালিত এক ঘুরন্ত প্ল্যাটফর্মের ওপর। পর্দা টানানোর পর খুব ধীরে প্ল্যাটফর্মটি ঘুরিয়ে নেওয়া হয়, আগে থেকেই স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশে হালকা বস্তু দিয়ে ঠিক একই রকম বেদি আর আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা ছিল। পর্দা নামানোর পর দর্শকরা এই নকল বেদিটিই দেখতে পান। তাঁরা গোটা ঘটনাটি ধরতেই পারেননি, কারণ পুরো প্ল্যাটফর্মটা ঘোরানো হয়েছিল অত্যন্ত ধীরে। রাতের বেলায় জাদুটি দেখানো হয়েছিল বলে অন্ধকারে আশপাশের কোনো পরিবর্তনও কারো চোখে ধরা পড়েনি। পরের অংশও বোঝা খুবই সহজ, প্ল্যাটফর্মটা আবার ঘুরিয়ে আগের অবস্থানে আনা হলে পরে দর্শকরা জায়গামতোই বিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে পান।

অনেকে অবশ্য সন্দেহ করে বলেন, যতই অন্ধকার হোক, পায়ের নিচে ঘুরন্ত প্ল্যাটফর্ম থাকলে সেটি কেউ টের পাবে না, তা কী করে হয়। তাদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, আদতে এসব দর্শক সবাই ছিল স্বয়ং জাদুকরের ভাড়া করা দর্শক, বিস্ময়ের ধ্বনি প্রকাশ করাই ছিল তাঁদের কাজ। জাদুটি দেখানো হয়েছিল টেলিভিশন দর্শকদের তাক লাগানোর জন্য। কেননা তাঁদের পক্ষে এত সব কারসাজি বোঝা সম্ভব নয়। তবে যা-ই হোক না কেন, জাদুর ইতিহাসে কপারফিল্ডের এই জাদু যে অমর হয়ে, গেছে তাতে সন্দেহ নেই।


মন্তব্য