kalerkantho


অদ্ভুত

ডাইনোসর পার্ক

শিমুল খালেদ

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ডাইনোসর পার্ক

লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেস পার্কে বেড়াতে গেলে স্বাগত জানাবে একদল ডাইনোসর। ভয় পাবেন না! টাইম মেশিনে চড়ে কোনো জুরাসিক পার্কে চলে আসেননি। এগুলো আসলে ডাইনোসরের ভাস্কর্য। এখানে আছে ৪০টির বেশি ডাইনোসরের ভাস্কর্য। এদের বয়স ১৬০ বছরের বেশি। প্রাগৈতিহাসিক যুগের দানবীয় চেহারার প্রাণীগুলোকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দেখানোর এটাই ছিল প্রথম প্রচেষ্টা। এখন ডাইনোসরদের সম্পর্কে আরো অনেক নতুন তথ্য আবিষ্কার হওয়ায় বলা যায় অনেক ভাস্কর্যেরই ডাইনোসরদের আসল চেহারার সঙ্গে বেশ অমিল ছিল। তার পরও ইতিহাসে এগুলোর আলাদা গুরুত্ব আছে। কারণ ভাস্কর্যগুলোর মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক যুগ সম্পর্কে ভিক্টোরিয়ানদের আগ্রহ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পাওয়া যায়। কংক্রিটের শক্ত গাঁথুনিতে ডাইনোসরগুলো তৈরি করেছিলেন ভাস্কর বেঞ্জামিন ওয়াটারহাউজ-হকিনস। তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন তখনকার নামি জীববিজ্ঞানী ও জীবাশ্মবিদ প্রফেসর রিচার্ড ওয়েন ।

১৮৫২ সালে ক্রিস্টাল প্যালেস পার্ক আগের জায়গা থেকে লন্ডনের সিদেনহামে সরিয়ে নেওয়া হয়। নতুন জায়গায় পার্কটির আকর্ষণ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা থেকেই ডাইনোসরের মূর্তি বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হকিনস ও রিচার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ডাইনোসরসহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বেশ কিছু প্রাণীর ভাস্কর্য বানানোর। তবে শুরুতেই সে প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়ে। কারণ হকিনসের কাছে কাজটি শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ফসিলবিষয়ক তথ্য-প্রমাণের অভাব ছিল। ডাইনোসরগুলোর সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটি হচ্ছে ইগুয়ানেডনের। কাদামাটি দিয়ে ইগুয়ানেডনের মডেল তৈরি করে রিচার্ডের কাছে নিয়ে যান হকিনস। প্রফেসর রিচার্ডও মডেলটি দেখে কোনো খুঁত খুঁজে পাননি। হকিনসের মডেলে এই ডাইনোসরটি চারপায়ে দাঁড়ানো এবং গণ্ডারের মতো নাকের ডগায় একটি শিংও ছিল। তবে আমরা এখন জানি, ইগুয়ানেডন পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করত এবং এর কোনো শিং ছিল না। ইগুয়ানেডনের মতো হকিনসের অন্যান্য মডেলও আধুনিক মানদণ্ডে ভুলভ্রান্তিমুক্ত বলা যায় না। যেমন মেগালেসোরাস। একেও চার পায়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায় এবং এর পিঠের দিকে রাখা হয়েছে উটের মতো কুঁজ।

কিন্তু ক্রিস্টাল প্যালেস পার্কে ডাইনোসরের ভাস্কর্যগুলো বসানোর পরপরই দর্শনার্থাীদের মধ্যে তা বেশ সাড়া ফেলে দেয়। সে সময় বছরে লাখ লাখ পর্যটক পার্কটিতে আসতে থাকে কেবল ডাইনোসরগুলোর আকর্ষণে। তবে দিনে দিনে ডাইনোসর সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে হকিনসের মডেলগুলো হাসাহাসি ও কৌতুকের পাত্রে পরিণত হয়। একটা সময়ে এসে মানুষ এই ডাইনোসরগুলোর বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং এদের কথা প্রায় ভুলেই যায়। তবে ক্রিস্টাল প্যালেস পার্কের ওই ডাইনোসরগুলোর ভুলত্রুটি দূর করার জন্য ২০০০ সালের দিকে পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু হয়। নতুন চেহারার ডাইনোসরসহ পার্কটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ২০০২ সালে।


মন্তব্য