kalerkantho


চীনের অর্ধচন্দ্রাকৃতির হ্রদ

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চীনের অর্ধচন্দ্রাকৃতির হ্রদ

চীনের কানসা প্রদেশের তোং শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে ধু ধু মরুপ্রান্তরের মধ্যে চোখে পড়বে এক শ্যামল মরূদ্যান। আর এই মরূদ্যানের প্রাণকেন্দ্র হলো ইয়োইয়াচিয়ান নামের এক অর্ধচন্দ্রাকৃতির হ্রদ।

ইয়োইয়াচিয়ান হ্রদের বয়স নেহাত কম নয়। এর বয়স কমপক্ষে দুই হাজার বছর। সুদূর অতীতে যখন প্রাচীন কিন বংশ চীন শাসন করত, তখন থেকেই হ্রদটি এই নামে পরিচিত।   তবে সাম্প্রতিককালে মরুকরণের পাল্লায় পড়ে এর অস্তিত্বই বিপন্ন হতে বসেছিল।

১৯৬০ সালের এক জরিপ অনুসারে হ্রদটির গড় গভীরতা ছিল ১৩ থেকে ১৯ ফুটের মধ্যে, আর সর্বোচ্চ গভীরতা ছিল ২৫ ফুট। পরের বছরগুলোতে কিন্তু এই গভীরতা কমতে থাকে দ্রুতগতিতে। নব্বইয়ের দশকে এসে দেখা গেল, হ্রদের গড় গভীরতা নেমে এসেছে মাত্র তিন ফুটে, আর সর্বোচ্চ গভীর স্থানটিও মাত্র চার ফুটের সামান্য বেশি। ফলে প্রায় ১২ হাজার বর্গফুটের হ্রদটি হুমকির মুখে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে থাকলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের।

২০০৬ সালে স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে হ্রদটি খনন করা শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে আবার এর গভীরতা বাড়তে থাকে। এখন এই হ্রদ দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না, কয়েক বছর আগেও এটি রীতিমতো অস্তিত্বসংকটে ছিল। অর্ধচন্দ্রাকৃতির হ্রদটি দেখতে তাই পর্যটকদের ঢল নামে।

হ্রদের চারপাশের বিস্তৃত মরুভূমিও পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। তাঁরা উটে চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন মরুভূমিতে। এ ছাড়া হ্রদের পাশেই রয়েছে সুদৃশ্য একটি প্রাচীন প্যাগোডা। পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে আছে আশেপাশে গড়ে ওঠা অসংখ্য স্যুভেনিরের দোকান।

 

► অমর্ত্য গালিব চৌধুরী


মন্তব্য