kalerkantho


সত্যিই

হাতির গরম কাপড়

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হাতির গরম কাপড়

ভারতের মথুরায় ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস এলিফেন্ট কনজারভেশন অ্যান্ড কেয়ার সেন্টার নামে হাতিদের একটি অভয়ারণ্য আছে। এখানকার হাতিগুলো এমনিতে বেশ সুখে শান্তিতে থাকলেও প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাচ্ছিল। বিশেষ করে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় এই এলাকার ঠাণ্ডার মাত্রাও। সে সময় শীতের প্রকোপে একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে প্রাণীগুলো। আর  ওদের শীতের কষ্ট থেকে বাঁচাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস এলিফেন্ট কনজারভেশন অ্যান্ড কেয়ার সেন্টার। আসলে এবার শীত আসার আগে উদ্যোগটি নিয়েছিল তারা। কয়েক মাস ধরেই হাতিদের জন্য শীতের কাপড় বোনা হচ্ছে। কাজটা মূলত করানো হচ্ছে অভয়ারণ্যের পাশে অবস্থিত একটি গ্রামের মহিলাদের দিয়ে।

অভয়ারণ্যে থাকা সব হাতির জন্য উলের কাপড় বানাচ্ছে তারা। বানানোর কাজ প্রায় শেষই বলা যায়। মাফলার, পাজামা, জামা—এসব দিয়ে হাতিদের গোটা শরীর ঢেকে ফেলার ব্যবস্থা হয়েছে।

 

হাতিগুলোর মাফলার বানাতেই প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগে গ্রামবাসীদের। হাতিদের মধ্যে মানুষের কাছ থেকে প্রথম এই মাফলার উপহার পায় ফুলকলি, সুজি আর লক্ষ্মীস। তবে সেটা ছিল প্রথম দিকের কথা। এরপর একে একে অভয়ারণ্যের ২০টি হাতিই শীতবস্ত্র পেয়ে যায়।

হাতিদের অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক সত্য নারায়ণ জানান, হাতি সংরক্ষণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তাদের বাঁচার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে সামনে যে আরো বেশি বুননকর্মী প্রয়োজন হবে তাদের, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ এ বছর আরো ৫০টি হাতি উদ্ধার করে অভয়ারণ্যে জায়গা দেওয়ার কথা ভাবছেন সত্য নারায়ণ। অভয়ারণ্যটি সম্প্রসারিত করার জন্য নতুন কিছু জায়গাও দেখে রাখা হয়েছে। হাতিকে ভালোবাসা এই মানুষটি হাতিদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করতে পেরে ভীষণ খুশি। তবে হাতিরাও নিশ্চয়ই তার চেয়ে কম খুশি নয়। তাদের গরম কাপড়গুলো একটু বেশি ঢিলেঢোলা হলেও তা নিয়ে হাতিদের মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।

হাতির দাঁতের লোভে মানুষের হাতে প্রতিবছর প্রচুর হাতি মারা পড়ছে। বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানই এখন তাই হাতিদের সংরক্ষণে কাজ করছে। তবে সত্য নারায়ণ আর মথুরার গ্রামবাসীরা তাদের একটু আলাদা ধরনের কাজের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ পেতেই পারেন।


মন্তব্য