kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিচিত্রা

জলমহল

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জলমহল

লোকের মুখে মুখে জলের প্রাসাদ নামে পরিচিত হলেও এর আসল নাম ‘জলমহল’। আর দেখা পেতে চাইলে যেতে হবে ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে অবস্থিত পিংক সিটিতে।

জলমহল যে লেকে, সেটির নাম ‘মান সাগর’। নিজ এলাকার মানুষের তেষ্টা মেটাতে হ্রদটি তৈরি করেছিলেন রাজা মান সিং। সেটি ১৬১০ সালের কথা। হঠাৎ করে ভয়ানক খরা আর দুর্ভিক্ষ দেখা দিল জয়পুরে। প্রজাদের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাই দ্রুত বারবতী নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির ব্যবস্থা করেন মান সিং। তৈরি হয় বিশাল এক লেক, যার নাম মান সাগর। এরপর বহু বছর ধরে এর পানি মানুষের পিপাসা মিটিয়েছে। হ্রদের ওপর জলমহল বানানোর পরও সেটির খুব বেশি রকমফের হয়নি।

জলমহল নির্মাণ করেছিলেন মহারাজ মাধো সিং। ১৮ শতকে নির্মিত এই প্রাসাদের মালিকানা এরপর পান মাধো সিংয়ের পুত্র দ্বিতীয় মাধো সিং। বাবার প্রাসাদকে অবশ্য খুব একটা বাড়াননি তিনি। প্রাসাদের সঙ্গে কেবল একটা বিচারশালা যোগ করেছিলেন। একসময় স্থানীয় শাসকদের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এই প্রাসাদ। ফলে অনাদর-অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে এর সৌন্দর্য।

পরবর্তী সময়ে আশপাশে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক আর গৃহস্থালির আবর্জনা এসে জড়ো হতে থাকে পানিতে। দিন দিন কালো হয়ে ওঠে পানি। বিকট গন্ধের কারণে একসময় পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যায় মান সাগরের আশপাশে। ফলে দৃষ্টির অনেকটা আড়ালে চলে যায় জলমহলও। পরের ২০০ বছরের বেশি সময় অবহেলিতই থাকে জলমহল আর মান সাগর।

২০০৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা দায়িত্ব নেয় জলমহল আর মান সাগরের। তাদের চেষ্টায় খুব দ্রুত আবার আগের রূপ ফিরে পায় মহলটি। সেই সঙ্গে মান সাগরও হয়ে ওঠে টলটলে পরিষ্কার। জলমহলের ধারে গেলে এখন আপনি কেবল প্রাসাদই নয়, দেখতে পাবেন পরিষ্কার পানিতে মহলের মোহনীয় ছায়াও!

সাধারণত প্রাসাদ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বিরাট কোনো স্থাপনা। যেখানে মানুষ বাস করে। জলমহল কিন্তু মোটেও এমন কিছু নয়। এটি তৈরি হয়েছিল মাধো সিংয়ের হাঁস শিকারের জন্য। মাঝেমধ্যে নৌকায় করে হাঁস শিকারে আসতেন তিনি এখানে। থাকার কামরা নেই, তবে বিশাল একটি চত্বর রয়েছে প্রাসাদে। আছে বাঁকানো সিঁড়িসহ বাগান।

চারপাশে পানি থাকায় এমনিতে একে একতলা বলেই মনে হয়। তবে জলমহল মোটেও একতলা নয়, পাঁচতলা। নিচের চারটি তলাই বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে ডুবে থাকে। রাজপুত আর মোগল—এই দুই ঘররানার শিল্পেরই দুর্লভ ছোঁয়ার দেখা পাওয়ার সৌভাগ্য হবে আপনার জলমহলে।

জলমহলের ছাদে রয়েছে বিশাল এক চারকোনা ছাতা। অসম্ভব সুন্দর কারুকার্যে বানানো এই ছাতার পাশে বসে কেবল দিনেরই নয়, রাতের ঝলমলে জলমহলকেও প্রাণভরে উপভোগ করা সম্ভব। তবে ঘটনা হলো, এখনো জলমহলকে সাধারণ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। তাই দূর থেকেই এর রূপ উপভোগ করা যায়।


মন্তব্য