kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত

লিফট না মৃত্যুফাঁদ!

শাদমান আলম শোভিক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লিফট না মৃত্যুফাঁদ!

এস্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এস্কেলেটরগুলো অনবরত চলতে থাকে।

চলন্ত অবস্থায় এতে উঠতে হয়, চলন্ত অবস্থায়ই নামতে হয়। ইউরোপেও এমন এক ধরনের লিফটের বহুল ব্যবহার ছিল। যেগুলোর কোনো দরজা নেই, অনবরত চলতে থাকে। এই লিফটে চলন্ত অবস্থায় উঠতে হয়, নির্দিষ্ট তলায় আসার পর এর থেকে নেমে যেতে হয়। চলন্ত সিঁড়িতে উঠতে যাঁরা ভয় পান, তাঁরা এই লিফটগুলো দেখলে রীতিমতো আঁতকে উঠবেন। বিপজ্জনক এই লিফটগুলো পরিচিত প্যাটার্নোস্টার নামে। প্যাটার্নোস্টারে শেকলে আটকানো কতগুলো প্রকোষ্ঠ পর পর সাজানো থাকে। আর সেগুলো দুটি শ্যাফট বা দণ্ডের মধ্যে বিরতিহীনভাবে চক্রাকারে ওঠানামা করতে থাকে। একপাশের শ্যাফট দিয়ে প্রকোষ্ঠগুলো ওপরে উঠতে থাকে, অপর পাশেরটা দিয়ে নিচে নামতে থাকে।

পিটার হার্ট নামক এক ইংরেজ প্রকৌশলী প্রথম প্যাটার্নোস্টারের ধারণা দেন। প্রথম প্যাটার্নোস্টারটি ১৮৮৪ সালে ইংল্যান্ডের ডার্টফোর্ডের একটি ভবনে স্থাপন করা হয়। ‘প্যাটার্নোস্টার’ শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষা থেকে। এর অর্থ ‘ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা’। খ্রিস্টান পাদরিরা প্রার্থনার সময় এক ধরনের জপমালা ব্যবহার করে থাকেন। প্যাটার্নোস্টারের প্রকোষ্ঠগুলো পাদরিদের ব্যবহৃত পুঁতির মালার মতোই সাজানো থাকে, সেখান থেকেই এর এমন নামকরণ। পুঁতির মালায় যেমন একটির পর একটি পুঁতির দানা গাঁথা থাকে, তেমনিভাবে প্যাটার্নোস্টারের প্রকোষ্ঠগুলো একটির পর একটি সাজানো থাকে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্যাটার্নোস্টার ইউরোপে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ এর সাহায্যে সাধারণ লিফটের চেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা করতে পারত। যদিও গতি সাধারণ লিফটের চেয়ে অনেক কম, তবুও এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। কালের বিবর্তনে ব্যবহার কমে যাওয়ায় প্যাটার্নোস্টার বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এই লিফটের ব্যবহার যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণও। অনবরত চলমান লিফটে ওঠার বা নামার সময় একটু ভুল হলেই হাত-পা কাটা পড়ার ভয় থাকে। নানা সময় দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। এ কারণে অনেক দেশেই এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, সুইডেন, স্লোভাকিয়া ও জার্মানিতে সচল প্যাটার্নোস্টার রয়েছে। জার্মানিতেই প্রায় আড়াই শটির মতো প্যাটার্নোস্টার আছে। জার্মান সরকার এই মৃত্যুফাঁদগুলো বন্ধ করার চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু প্রাচীন এই যন্ত্রগুলো বাঁচিয়ে রাখার পক্ষের লোকদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তবে ১৯৭৪ সাল থেকে ভবনে নতুন করে প্যাটার্নোস্টার স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে।


মন্তব্য