kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সত্যিই

গহন কোনো বনের ধারে

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গহন কোনো বনের ধারে

এই ইট-পাথরের পৃথিবী ভালো লাগে না অনেকেরই। ভালো লাগে না বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার।

অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও প্রকৃতির কোলে ফিরে যেতে চান। তাঁদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে সুইডেনের কোলাবিন ইকো-লজ হোটেল। এখানে এলে প্রথমেই মনে হবে, কয়েক শ বছর পিছিয়ে গেছেন আপনি। বনের একেবারে মাঝে অবস্থিত অসম্ভব সুন্দর এই জায়গায় পর্যটকরা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই উপভোগ করেন না, সেই সঙ্গে তাঁদের কাঠ কাটা, রান্না করা, পানি আনা, বাসন মাজার মতো অনেক কাজই করতে হয়। যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে একটু বিরক্তিকর আর কষ্টের কাজ মনে হলেও বাস্তবে একেবারেই তা নয়। বরং জীবনের আরো সব আনন্দ খানিকটা বাড়িয়ে তোলে এগুলো। অথচ এই অত্যন্ত স্বাভাবিক কাজগুলোই ভুলে যেতে বসেছে বর্তমানের প্রযুক্তিনির্ভর মানুষরা।

সুইডেনের স্কারসজন সাগরসৈকত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে প্রিস্টিন সুইডিশ ফরেস্টের ভেতর অবস্থান কোলারবন ইকো-লজের। এখানে আছে মোট ১২টি কাঠ আর মাটির তৈরি কুঁড়ে। প্রতিটি ঘরে আছে দুটি করে ভেড়ার চামড়ার বিছানা, একটি চুলা। সেই চুলা জ্বালানোর জন্য কাঠ কেটে আনতে হবে বন থেকে। আর ওই কাঠ কাটার জন্য ঘরে পাবেন কুঠারের মতো যন্ত্রও। খাওয়ার জন্য স্প্যাগেটি, টমেটো সস, ডিম, ফল আর রুটির ব্যবস্থা আছে এখানে। তবে সেগুলো দিয়ে সকালের নাশতা সারা গেলেও দুপুর আর রাতের খাবারটা খুঁজে পেতে তৈরি করে নিতে হবে আপনাকেই। বাথরুম করার জন্য এখানে আলাদা কোনো জায়গা নেই। সাধারণত গাছের পাশে বা ঝোপের আড়ালেই কাজটি সেরে নিতে বলা হয় সবাইকে। গোসলের জন্যও যেতে হবে খানিক দূরের ঝরনার ধারে। আর এখানে আপনাকে থাকতে হবে বিদ্যুৎ ছাড়া। মোম কিংবা পুরনো দিনের ল্যাম্পই ঘর আলোকিত করে এখানে।

কোলাবিনের এই কুঁড়েঘরগুলোকে খুব বেশি সাধারণ মনে হলেও বাস্তবে এগুলোর আছে প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাস। এত বছর ধরে এখানকার স্থানীয়রা কাদা আর কাঠ দিয়ে এই কুঁড়েগুলো বানিয়ে আসছে। এখানে সেই ঘর তৈরির ব্যাপারেও খুঁটিনাটি জানতে পারবেন।

জায়গাটির মালিক অ্যান্দ্রেস আলসেনের মতে, বর্তমানের গত্বাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠ আর মাটির ঘর দেখতে এখানে আসেন পর্যটকরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতেই ঘরগুলো এতটা ছোট করে তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান অ্যান্দ্রেস।

অসম্ভব সুন্দর আর অন্য রকম এই জায়গা একজন মানুষকে ছুড়ে দেয় চ্যালেঞ্জও। সত্যিই তো! বিদ্যুৎ, পানি, বাথরুম আর জ্বালানি ছাড়া বেঁচে থাকাটা বর্তমান সভ্যসমাজের মানুষদের জন্য চ্যালেঞ্জ নয়তো আর কী?


মন্তব্য