kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অন্য রকম

গুহায় চুয়ান্ন বছর

শিমুল খালেদ   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গুহায় চুয়ান্ন বছর

এক চীনা দম্পতির গুহাবাসের গল্প এটা। একটি ভালো বাসায় ওঠার সামর্থ্য না থাকায় নানচিয়াও শহরের কাছাকাছি পর্বতের একটি গুহায় আবাস গড়েন এই দম্পতি।

তারপর ওখানেই তাঁরা কাটিয়ে দিয়েছেন অর্ধশতাব্দীরও বেশি—৫৪ বছর!

গুহাবাসী চীনা দম্পতি ৮১ বছরের লিয়াং জিফু ও ৭৭ বছরের লি সানিং গুহাটির সন্ধান পান বিয়ের তিন বছর পর, যখন তাঁদের নিজেদের বাড়ি করার মতো সাধ্য ছিল না। অতএব, গুহাবাসীর জীবনই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমদিকে এই অস্বাভাবিক বাসস্থানে আরো তিনটি পরিবারও থাকত তাঁদের সঙ্গে। তবে অন্য পরিবারগুলো একে একে গুহা ছেড়ে শহরে গিয়ে বসত গাড়ে। কিন্তু এই দম্পতি গুহার মায়া কাটাতে পারেননি। চার সন্তানের জনক-জননী এই দম্পতির গুহাবাসের গল্প চীনা সংবাদমাধ্যমে আসার পর মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নগরজীবনের সব সুবিধাসহ শহরে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ওই দম্পতি।

জীবনের নানা স্মৃতিতে ভরপুর ওই গুহাগৃহে বৃদ্ধ দম্পতি প্রায় পুরোটা জীবনই আরামে তাঁদের মতো করে কাটিয়ে দিয়েছেন। এখন ওই গুহায় আছে রান্নাঘর, বসার ঘর ও তিনটি বেডরুম। কর্তা লিয়াং ছাদের ধারে তৈরি করেছেন একটি বাগান। সেখানে চাষাবাদ করেন। শূকরও পোষেন ওই দম্পতি। গুহাবাড়ির প্রবেশমুখেই আছে খনন করা পরিষ্কার পানির কূপ। গুহায় আছে বিদ্যুতের সুবিধাও। তিলতিল করে বাড়িটি নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন দুজনে। তাঁরা জানান, এই গুহাবাড়ি মানুষের তৈরি করা ঘরবাড়ির চেয়ে গরমকালে অনেক শীতল আর শীতকালে তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। তবে এখানে তাঁরা খুব নিঃসঙ্গ। বিশেষ করে সন্তানরা গুহাজীবন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তা আরো বেশি করে অনুভব করছেন। কিন্তু তার পরও তাঁদের পক্ষে এই গুহার মায়া কাটিয়ে অন্য কোথাও আবাস গাড়া সম্ভব নয়।


মন্তব্য