kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দরজার ওপাশে

নিজের বানানো বিমানে চড়ে

যানজটে নাকাল হচ্ছেন! তাহলে এক কাজ করুন, একটা বিমান বানিয়ে ফেলুন। আজগুবি গল্প ভাবছেন! কিন্তু ফ্রান্টিসেক হাড্রাভা তা-ই করেছেন। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিজের বানানো বিমানে চড়ে

বাসা থেকে কারখানায় যেতে ফ্রান্টিসেক হাড্রাভার ১৫ মিনিট সময় লাগত। নিজের গাড়িতেই যাওয়া-আসা করতেন।

কিন্তু তাতেও পোষাচ্ছিল না। শেষমেশ নিজেই বানিয়ে ফেললেন আস্ত একটা বিমান। তাতে তাঁর যাওয়া-আসার সময় নেমে এলো অর্ধেকে। এখন সময় লাগে মোটে সাত মিনিট করে।

৪৫ বছর বয়সী হাড্রাভার বাড়ি চেক প্রজাতন্ত্রের সাউথ বোহেমিয়ান প্রদেশে। কাজ করেন ড্রেভোস্ট্রোজ নামের একটি তালা বানানোর কারখানায়। কারখানাটা সেই প্রদেশের প্রাশাটিশে জেলার কাইন পৌরসভায়। তিনি বাস করেন কাইনের পাশেরই এক গ্রামে। নাম জিকোভ। অবশ্য বাসা থেকে সোজাসুজি কারখানায় এলে আরো দু-তিন মিনিট কম সময় লাগত। কিন্তু হাড্রাভা খানিকটা পথ ঘুরে আসেন। যাতে তাঁর বিমানের শব্দে পাড়া-প্রতিবেশীর সকালের আরামের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটে।

নিজের বানানো এই বিমানের নাম তিনি দিয়েছেন ভ্যাম্পিরা। ১৭৫ কেজি ওজনের বিমানটির পুরো কাঠামোটাই বানিয়েছেন কাঠ দিয়ে। এমন কাঠ দিয়ে বিমান বানায় মার্কিন কম্পানি টিম মিনি-ম্যাক্স। ওরা মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই বিমান বানায়। খোলা ককপিটের হালকা ওজনের ছোট বিমান। হাড্রাভাও ওদের মডেল অনুসরণ করেই তাঁর বিমানটি বানিয়েছেন। তাতে ব্যবহার করেছেন তিন সিলিন্ডারের ইঞ্জিন। ওড়ার জন্য সে ইঞ্জিনের প্রতি ঘণ্টায় তেল লাগে ছয় লিটার। সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৯১ কিলোমিটার। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আস্ত একটা বিমান বানাতে হাড্রাভার খরচ হয়েছে মাত্র চার হাজার ১৫০ ডলার! চেক রিপাবলিকের টাকায় অবশ্য এক লাখ করুনা। বাংলাদেশের মুদ্রায় সোয়া তিন লাখ টাকার মতো।

এখন এই ভ্যাম্পিরায় করে প্রতিদিন সাত মিনিটের মধ্যে কারখানায় পৌঁছে যান হাড্রাভা। রাস্তার যে পাশে তাঁর কারখানা, তার ঠিক উল্টো পাশেই আছে একটা সবুজ ঘাসে ছাওয়া মাঠ। সেখানেই ভ্যাম্পিরাকে অবতরণ করান। তারপর কারখানার পার্কিং লটে রাখেন ওটাকে। ভ্যাম্পিরা আবার একাই চারটা গাড়ির জায়গা দখল করে। তাতে অবশ্য হাড্রাভারের সহকর্মীরা খুব একটা রাগ করেন না। তাদের এই সহকর্মী নিজেই যখন আস্ত একটা বিমান বানিয়ে ফেলেছেন, চারটি গাড়ির পার্কিং লট তো তাঁকে ব্যবহার করতে দেওয়াই যায়!

অবশ্য বিমান নিয়ে হাড্রাভারের কাজ এটাই প্রথম নয়। এর আগে তিনি বিমান না বানালেও একটা আস্ত বিমানের রেপ্লিকা বানিয়েছিলেন। সে রেপ্লিকা কাজও করত, মানে অল্প-বিস্তর উড়তেও পারত। সেটি আবার যে সে বিমানের রেপ্লিকা ছিল না। ১০ বছর বয়সে তিনি পুরনো যুদ্ধবিমানের ওপর একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলেন। তখন থেকেই এগুলোর প্রতি তাঁর আগ্রহের শুরু। আর সেই রেপ্লিকাও ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিখ্যাত জার্মান যুদ্ধবিমান ফকার ডক্টর আইয়ের রেপ্লিকা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই ট্রাইপ্লেনটি ব্যবহার করেছিলেন মেনফোর্ড ভন রিকটোভেন। জার্মান এই যুদ্ধবিমানের চালক সে সময় রেড ব্যারন নামে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একাই ৮০টা আকাশ-যুদ্ধে জিতেছিলেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে শেষ ১৯টায় তিনি লড়েছিলেন এই ফকার ডক্টর আই মডেলের ট্রাইপ্লেনে চড়ে।

 


মন্তব্য