kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরাতজোরে

দুঃসাহসী ফিলিপ

কিছু কিছু লোকের ভাগ্য দেখে হিংসা হবে আপনার। তাঁদের এমনই ভাগ্য যে অনেক উঁচু কোনো দালান থেকে পড়ে কিংবা গুলি খেয়েও দিব্যি বেঁচে যায়। কেউ আবার নিশ্চিত জেল-জরিমানার কবল থেকেও রেহাই পেয়ে যায় নেহাত বরাতজোরে। লিখেছেন আনিকা জীনাত

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দুঃসাহসী ফিলিপ

ফ্রান্সের বাসিন্দা ফিলিপ পেতিতের নেশা ছিল উঁচু স্থাপনার ওপর উঠে খেলা দেখানো। বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ১৯৭৪ সালে যে কসরত দেখিয়েছিলেন, তা নিয়ে মাতামাতি কম হয়নি।

এক হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে উঠে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুই টাওয়ারের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি তারে হেঁটে তিনি যে খেলা দেখান, তাতে দর্শকদের হৃদস্পন্দন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। এক-দুবার নয়, পাক্কা আটবার তিনি ১১০ তলা উঁচুতে ১৪০ ফুট লম্বা একটি তারের ওপর দিয়ে যাওয়া-আসা করেন। রোমাঞ্চকর এই অভিযান দেখতে নিচে থাকা পথচারীরা প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর একমাত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল ২৬ ফুট লম্বা একটি ভারসাম্য রক্ষা করা লাঠি। তাতে ফিলিপের ভারসাম্য রাখতে কোনো সমস্যা না হলেও তাঁর এই উদ্ভট কাজকারবার হজম করতে পারেনি পুলিশ।

বেরসিক পুলিশ অনুমতি ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ খেলা দেখানোয় গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ফিলিপকে।

তাঁকে পরীক্ষা করার পর পুলিশ বিভাগের এক মনোচিকিৎসক মন্তব্য করেন, যে ব্যক্তি ১১০ তলা উঁচুতে কোনো কারণ ছাড়াই এ ধরনের কাজ করতে পারেন, তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়ে অবশ্যই সন্দেহের অবকাশ আছে।

তবে হতভম্ব ফিলিপ এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘উঁচুতে হাঁটাই আমার কাজ। এই কাজটা আমি উপভোগ করি বলেই করি। কিছু লোক জানেই না মজা জিনিসটা আসলে কী। ’ অবশ্য পুলিশ পরবর্তী সময়ে একটি শর্তে তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। শর্ত অনুযায়ী ফিলিপকে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ছোটদের সামনে একটা শো করতে হয়েছিল। আর এটা খুশি মনেই করেছিলেন তিনি।


মন্তব্য