kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিচিত্রা

ভালোবাসার সুড়ঙ্গ

শাদমান আলম শোভিক

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভালোবাসার সুড়ঙ্গ

২০১১ সালে ইন্টারনেটে সবুজ গাছপালা ঘেরা একটি রেলপথের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি বেশ সাড়া ফেলে দেয়।

এর নাম ‘টানেল অব লাভ’ বা ভালোবাসার সুড়ঙ্গ। অবস্থান ইউক্রেনের ক্লেভান অঞ্চলে। ওর্জহিভ বলে একটি জায়গার ধারে রেললাইনটি দুটি ভাগ হয়ে দুই দিকে চলে গেছে। একটি রেললাইন গেছে ক্লেভানের দিকে, আর আরেকটি গহিন বনের ভেতরে ঢাকা পড়া একটি সামরিক ঘাঁটিতে। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন স্থাপন করা হয় এই সামরিক ঘাঁটি। সেনাঘাঁটিটিকে আড়াল করার জন্য প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছিল। গুগল মানচিত্রে ঘাঁটিটিতে বেশ কিছু সামরিক যান দেখা যায়, যা থেকে ধারণা করা যায় যে ঘাঁটিটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।

আর ওর্জহিব থেকে ক্লেভানে যাওয়ার পথে পড়ে এই টানেল অব লাভ। চলাচলের সুবিধার্থে এর গাছপালাগুলো সুন্দর করে কেটেছেঁটে রাখা হয়। তবে সামরিক মালামাল নয়, একটি প্লাইউড কারখানার মালামাল বহন করার জন্য মালবাহী ট্রেনের যাতায়াত এখন এই পথে। প্লাইউড কারখানাটির অবস্থান ওর্জহিবে। ইউক্রেনের নানা প্রান্ত থেকে সংগৃহীত বার্চগাছের কাঠ এই রেলপথ দিয়ে কারখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার কারখানাটিতে তৈরি হওয়া প্লাইউডের প্যানেলগুলোকেও মালগাড়িতেই পাঠানো হয়, যা ক্লেভান জংশন থেকে প্রধান রেলপথ হয়ে পশ্চিম ইউরোপের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে যায়।

টানেল অব লাভের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েকবার ট্রেন যাওয়া-আসা করে। সুড়ঙ্গটি কারখানার মাত্র কয়েক শ মিটার দূর থেকে শুরু হয়েছে। যত দূর জানা যায়, সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার।

ইউক্রেনে এই সুড়ঙ্গটি ভীষণ জনপ্রিয়। নব বিবাহিত দম্পতিদের প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসতে ও ছবি তুলতে দেখা যায়। আর তাই এর নাম হয়ে গেছে ‘টানেল অব লাভ’ বা ভালোবাসার সুড়ঙ্গ। তবে এই পর্যটকরা ট্রেনচালকদের জন্য বড় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখানে অতি সাবধানে ট্রেন চালাতে হয়, তার পরও দু-একটি দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। কাগজে-কলমে এই সুড়ঙ্গের দেখভাল করার দায়িত্ব নির্দিষ্ট কারো ওপর বর্তায়নি। তবে বছর কয়েক আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে কিছু গাছ কেটেছিল, তাতে ভয়ানক শোরগোল সৃষ্টি হয়। এর পর থেকে তারা আর কোনো গাছ কাটার সাহস করেনি।


মন্তব্য