kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উৎসব

লুকোচুরি প্রতিযোগিতা

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লুকোচুরি প্রতিযোগিতা

লুকোচুরি ছোটবেলায় আমরা সবাই কমবেশি খেলেছি। কিন্তু সেই লুকোচুরি খেলাটা যে বড়রা খেলতে পারে, আর এটি নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা যায় সেটি কি কখনো কল্পনা করেছেন? কিন্তু এটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে ইতালির সিটিআরএল ম্যাগাজিন।

২০১০ সালে ম্যাগাজিনটির প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে প্রথম আয়োজন করা হয়েছিল এই মজার লুকোচুরি প্রতিযোগিতার। আর এরপর এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় যে প্রায় প্রতিবছরই এর আয়োজন হতে থাকে। ২০১৬ সালেও আবার আয়োজন করেছে ম্যাগাজিনটি ওই প্রতিযোগিতার। সেপ্টেম্বরের ৩ ও ৪ তারিখ হয়ে গেল প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ আসর। ভাবছেন, লুকোচুরি তো ছোটদের খেলা। তা বড়রা কী করে খেলে? ঠিক এই ভাবনা এসেছিল আয়োজকদের মাথায়ও। আর তাই সাধারণ লুকোচুরি খেলার চেয়ে একটু জটিল করে বানানো হয়েছে এই খেলার নিয়ম।

নিয়মটা অনেকটা এ রকম—বেশ কয়েকটি দল থাকবে। প্রতিটি দলের ভেতর থেকে একজন গিয়ে লুকোবে। এদিকে নিরপেক্ষ দল বলে একটি দল থাকবে। যারা কিনা গুনে গুনে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত সময় দেবে। আর তার পরই শুরু হবে খেলা। খেলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মাঠের মাঝখানে রাখা জাজিম ছোঁয়া। নিজের লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিযোগীকে চেষ্টা চালাতে হবে জাজিমের কাছে পৌঁছানোর। তবে এর ভেতরে আসবে অনেক বাধাবিপত্তি। আয়োজকদের নির্বাচিত কিছু খেলোয়াড় চেষ্টা করবে প্রতিযোগীকে ধরে ফেলার বা ছুঁয়ে দেওয়ার। প্রতিযোগীকে কারো কাছে ধরা না দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যেই জাজিম ছুঁয়ে ফেলতে হবে। যদি একবার কেউ তাকে দেখে ছুঁয়ে দেয়, তবে সে চলে যাবে প্রতিযোগিতার একদম বাইরে। কোন প্রতিযোগী কতটা অন্যের চোখ বাঁচিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর জাজিম ছুঁয়ে দিল, তার ওপর নির্ভর করেই পয়েন্ট দেওয়া হয়। শুনতে অনেকটা সোজা মনে হলেও আদতে ব্যাপারটা খুব একটা সহজ নয়। কারণ খেলায় আপনাকে আটকে দেওয়ার জন্য থাকবে আমেরিকার সেরা কিছু রাগবি ও ফুটবল খেলোয়াড়। যারা কিনা যতটা দ্রুতগতির, ততটাই সজাগ। ফলে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ২৫ হাজার বর্গমিটারের মাঠ পেরোনোটা মুখের কথা নয়।  

খেলাটির স্থানীয় নাম নাসকোনদিনো। ইতালিয়ান ভাষায় যার মানে লুকোচুরি। আর এ বছরের সেপ্টেম্বরের ৩ ও ৪ তারিখ ষষ্ঠ নাসকোনদিনো ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয় ইতালির নয়নাভিরাম এক গ্রাম কুনসোন্নোতে। একটা সময় প্রচুর লোকজন ছিল এই গ্রামে। ছিল চিড়িয়াখানা, অসম্ভব সুন্দর দালানকোঠা, রেলব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে অনেকটাই জনবিরল হয়ে পড়েছে গ্রামটি। বলতে গেলে বেশ ভৌতিক হয়ে উঠেছে এর চেহারা। আর নিজেদের লুকোচুরি  খেলার জন্য এমন ভৌতিক ও জনবিরল স্থানই একদম আদর্শ বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াটা খুব সোজা। প্রতি দল বাবদ ১২৫ ইউরো (প্রায় ১১ হাজার টাকা) দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে প্রথমে। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার বয়স হতে হবে আঠারোর বেশি। ২০১৪ সালে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাইকেল জেফিনো জানান, লুকোচুরি খেলার সবচেয়ে কঠিন পর্বটি হচ্ছে, ঠিক কখন আপনি লুকানোর জায়গা থেকে বের হয়ে আসবেন তা নির্ধারণ করা।

বর্তমানে নাসকোনদিনো ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনেকটাই ঘরোয়া খেলা। ইতালিতেই যার পরিচিতিটা বেশি। নামের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড শব্দটা এখনো অনেকটা অবাস্তব বলে ভাবেন আয়োজকরা। তবে তার পরও সেই অবাস্তব ব্যাপারটা একদিন সত্যি হয়ে বাস্তবে রূপ নেবে, নাসকোনদিনো স্থান করে নেবে অলিম্পিকে—এমনটাই স্বপ্ন তাঁদের। আর সে দিনের জন্যই এখনো অপেক্ষা করে আছেন তাঁরা। তবে প্রতিযোগিতার বেশির ভাগ দল এখনো ইতালির হলেও খেলা দেখতে দর্শক আসে ইউরোপের অনেক দেশ থেকেই।


মন্তব্য