kalerkantho

বরাতজোরে

বেলুন শিকার

কিছু কিছু লোকের ভাগ্য দেখে হিংসা হবে আপনার। তাঁদের এমনই ভাগ্য যে অনেক উঁচু কোনো দালান থেকে পড়ে কিংবা গুলি খেয়েও দিব্যি বেঁচে যান। কেউ আবার নিশ্চিত জেল-জরিমানার কবল থেকেও রেহাই পেয়ে যান নেহাত বরাতজোরে। লিখেছেন আনিকা জীনাত

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বেলুন শিকার

পাইলট গ্রাহান টার্নবুল দুই যাত্রীসহ ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার উপত্যকা দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ শৌখিন শিকারিদের একটি দল সেখানে গিয়ে শিকার করা শুরু করে। তখনই শটগানের একটি গুলি এসে বেলুনে লাগে।

বেলুনটি যেখান দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, তার নিচে থাকা ১৬০০ একরের জমিটির মালিক লর্ড মাউন্টগাররেটর। বেলুনে এসে আঘাত হানা গুলিটিও তাঁর শটগান থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে গুলিটা কিন্তু দুর্ঘটনাবশত বেলুনের গায়ে লাগেনি। তাঁর জমির ওপর দিয়ে বেলুন উড়ে যাচ্ছে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে গুলিটা ছোড়েন লর্ড মাউন্টগাররেটর। বেলুনের চালককে চিত্কার করে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় ঢুকে পড়েছ! এটা কি খেলা পেয়েছ?

টার্নবুলও চেঁচিয়ে জবাব দেন, ‘তুমি আকাশপথের মালিক নও। ’ এর পরই শটগানের একটি গুলি এসে বেলুনটি ফুটো করে দিল। সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই বেলুনটিও নিচে নেমে আসে।

চুপসানো বেলুন থেকে বের হয়ে টার্নবুল বলেন, ‘আমাদের দিকে অনেক গুলি করা হয়েছিল। নিচ দিয়ে না উড়লে তো আজ মরেই যেতাম। ’

তখন শিকারি দলের এক সদস্য নিজেদের পক্ষে সাফাই গান এই বলে যে বেলুনের কারণে হাঁসগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ওড়াউড়ি করছিল। শিকার করতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই অনেক অতিথি রাগ করে বেলুনের দিকেই গুলি ছুড়তে শুরু করে।

সেখানে উপস্থিত আরেক মহিলা পুরো ঘটনাকে নিছক মশকরা বলে উড়িতে দিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে চিঁড়া ভিজেনি।

বিবাদের সুরাহা না হওয়ায় ঘটনাটি স্কিপটনের ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত গড়ায়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিচারক শিকারি দলকে এক হাজার পাউন্ড জরিমানা করেন।

তবে প্রাণে বেঁচে গেলেও পাইলট টার্নবুলের ক্ষতিই হয়। কারণ বেলুনটি ব্যবহার করা হতো মূলত প্রচারণার উদ্দেশ্যে। বেলুনে করে স্কিপটন বিল্ডিং সোসাইটি নামের একটি কম্পানির প্রচারণা চালানো হতো। এ ঘটনা শহরে এমনভাবে ছড়াল যে আর কোনো প্রচারণারই দরকার পড়ল না। কম্পানি টার্নবুলকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিল।


মন্তব্য