kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অন্য রকম

দুই ডাকবাক্স

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দুই ডাকবাক্স

গত বছরের আগস্টের কথা। বলা নেই কওয়া নেই—হঠাৎ এক প্রচণ্ড ঝড় এসে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল তাইওয়ানকে।

সৌদিলর নামের এই শক্তিশালী টাইফুন ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে এসে আঘাত হানে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে। ভয়ানক ঝড় সরে গিয়ে দিনের আলো যখন ফুটে উঠল, চারপাশে ধ্বংসের চিহ্ন। গাছ উপড়ে গিয়েছে, সড়কবাতি উড়ে গিয়েছে দূরে কোথাও, ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার, চারপাশে কাতরাচ্ছে আহত মানুষ। এই ঝড়ে প্রাণও যায় আটজন মানুষের।

কিন্তু এত কিছুর পরও দুটি মেইলবক্স দেখে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠেছিল সবার মুখে। তাইপের এক সড়কের কাছেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা লাল আর সবুজ রঙের বাক্স দুটি ভেঙে ফেলতে কম চেষ্টা করেনি ঝড়। এমনকি পাশের কোনো এক দালান থেকে সাইনবোর্ড উপড়ে এনে ফেলে এগুলোর ওপর। কিন্তু তাতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি বাক্স দুটির। বরং ঝড়ের এই তাণ্ডবে একটু বেঁকে গিয়ে মেইলবক্স থেকে যেন দুটি মানুষের মাথার আকৃতি পেয়ে গিয়েছিল এগুলো।

প্রথমে মেইলবক্স দুটি সরিয়ে সেখানে নতুন মেইলবক্স বসাতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তত দিনে জিয়াও হং (ছোট্ট লাল) আর জিয়াও লু (ছোট্ট সবুজ ) নামের মেইলবক্স দুটির এমন আকৃতিকেই ভালোবেসে  ফেলেছিল মানুষ। এতেই সিদ্ধান্ত বদলায় ডাক বিভাগ। ভাঙা বাক্স দুটি ঠিক সেভাবেই রেখে দেয় তারা রাস্তার পাশে।

তবে বেঁকে গিয়েছে বলে কিন্তু এমন নয় যে মেইলবক্স দুটিতে চিঠি ফেলা যাবে না। বরং এই বাক্সে ফেলা চিঠিগুলোর ওপর তারকা খ্যাতিপ্রাপ্ত মেইলবক্স দুটির আলাদা একটি স্ট্যাম্প মেরে দেওয়া হয়।

 


মন্তব্য