kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দরজার ওপাশে

গুহাবাড়ির শহর গুয়াদিক্স

দক্ষিণ স্পেনের গ্রানাডা প্রদেশের একটি শহর গুয়াদিক্স। ছোট্ট এ শহরের মূল আকর্ষণ এখানকার গুহাবাড়ি। লিখেছেন ফাহমিদা হক

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গুহাবাড়ির শহর গুয়াদিক্স

মাটির নিচে গুহার মতো করে বানানো এসব বাড়িতে এখানকার স্থানীয়রা বাস করে আসছে শত শত বছর ধরে। হাজার বছর আগে বানানো এ বাড়িগুলোকে গুহাবাড়ি বলার কারণ হলো, বাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে।

আর এ জন্য বাড়িগুলোয় ঢুকলে মনে হবে যেন পাহাড়ের নিচে কোনো গুহায় কেউ চলে এসেছে। প্রত্যেক বাড়িরই আবার রয়েছে নিজস্ব দরজা-জানালা।

গুহাবাড়ি শুনলেই হয়তো মনে হতে পারে—এসব বাড়ি আর তার বাসিন্দারা বুঝি ভীষণ সেকেলে। কিন্তু আসলে ঠিক উল্টোটা। গুয়াদিক্সের এসব গুহাবাড়ি মাটির নিচে বানানো হলেও এগুলোতে সুযোগসুবিধা কিন্তু এখনকার আধুনিক বাড়ির চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। কোনো কোনো বাড়িতে রয়েছে মার্বেল পাথরের তৈরি মেঝে, আধুনিক সব রান্নাঘর আর বাথরুম, এমনকি ইন্টারনেটের ব্যবস্থাও। কারো কারো বাড়িতে তো চার-পাঁচটি বেডরুমও রয়েছে। রান্নাঘরের ধোঁয়া বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বানানো চিমনিগুলো আবার সব মাটির ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সব বাড়িতে সাদা রং করার কারণে বেশ উজ্জ্বল লাগে দেখতে। শুধু থাকার বাড়িই নয়, গুয়াদিক্সের এসব গুহাবাড়ির অনেকগুলোতেই রয়েছে রেস্তোঁরা, দোকানপাট, হোটেল ও গির্জা।

স্পেনের এ অংশের তাপমাত্রা দিনে অনেক বেশি থাকে, রাতে অনেকটা কমে যায়। গুয়াদিক্সের গুহাবাড়িগুলো কিন্তু এমন তাপমাত্রায় থাকার জন্য ভীষণ উপযোগী। তার কারণ, মাটির নিচে থাকায় এসব বাড়ির তাপমাত্রা দিনে থাকে কম, রাতে বেশ গরম থাকে ঘরের ভেতর। এ কারণে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত মানুষের বসবাসের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল এসব গুহাবাড়ি। তবে আস্তে আস্তে এখানকার অনেক বাসিন্দা পুরনো বাড়ি ছেড়ে আরো আধুনিক বাড়িতে পাড়ি জমানো শুরু করে।

অবশ্য এখনো শত শত মানুষ এই গুহাবাড়িগুলোতে বাস করছে। পর্যটকদের কাছেও খুব জনপ্রিয় এগুলো। অনেকে শখ করে ছুটি কাটানোর জন্যও এসব বাড়ি কিনে নেন, কেউ কেউ তো নিজেদের বাড়িটিকে হোটেল হিসেবে ব্যবহার করেও কিছু পয়সা আয় করে নিচ্ছেন।


মন্তব্য