kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত

অ্যান্টার্কটিকায় রক্তস্রোত!

ধ্রুব নীল

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যান্টার্কটিকায় রক্তস্রোত!

চারদিকে সাদা আর সাদা। চোখ ধাঁধিয়ে যায় দুঁদে অভিযাত্রীকেরও।

ধু-ধু সাদার মধ্যে যেন এক চিলতে রঙের দেখায় চমক লাগে। আরে এই তো রং! টকটকে লাল! রক্তের মতো। রক্তই তো! এত এত রক্ত! রীতিমতো জলপ্রপাতের মতো বয়ে পড়ছে। কী ভয়ানক রে বাবা!

অ্যান্টার্কটিকার বরফরাজ্যে আছে এমনই এক স্রোতধারা। ঘন লাল ধারা বয়ে চলেছে অবিরাম। তবে রক্ত নয় ওগুলো। পুরোটাই পানি, তবে অসম্ভব লবণাক্ত।

চোখ ধাঁধানো ও গা শিউরে ওঠার মতো লেকটা দেখতে প্রথমে যেতে হবে অ্যান্টার্কটিকার স্কট বেইজে। এরপর হেলিকপ্টারে কিংবা কোনো ক্রুজ শিপে করে রস সাগর পার হয়ে যেতে হবে টেইলর হিমশৈলের ওপর।

কিন্তু এত লাল এলো কোথা থেকে? কেউ তো আর এসে অ্যান্টার্কটিকায় রং ঢেলে দিয়ে যাবে না। প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল ওই পানিতে মিশে আছে বিশেষ ধরনের অণুজীব। কিন্তু প্রকৃতি বিশারদদের মতে এটা সম্ভব নয়। সঠিক উত্তর যে বিজ্ঞানীরা খুঁজবেন তা তো জানা কথা। স্রোতের ফাটল খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো প্রাগৈতিহাসিক রোমাঞ্চকর এক রহস্যভাণ্ডার। টেইলর হিমশৈলের নিচেই আছে অতিকায় এক সাবগ্লেসিয়াল লেক। মানে বরফের নিচের অতিকায় জলভাণ্ডার। সেই ভাণ্ডারে পৌঁছে না সূর্যের আলো। আশপাশের জাগতিক পরিবর্তন থেকে বছরের পর বছর যা ছিল মুক্ত। আর তার বয়স? গুনে গুনে ২০ লাখ বছর। এর কম নয় মোটে। আর ওই সময়ই সেখানে গড়ে ওঠে এক প্রাগৈতিহাসিক অণুজীবের বসতি। তাদের গড়ে ওঠাটা ছিল একেবারে অন্য রকম। বেড়ে উঠতে ও টিকে থাকতে দরকার হতো না অক্সিজেনের। আর তাই সংখ্যায় বেড়ে যায় হু হু করে। বহুকাল পর ওপরের স্তরের একটি ফাটল পাওয়া মাত্রই ওই অণুজীব মেশানো পানি বের হয়ে আসতে শুরু করে। বাইরের বাতাসে থাকা অক্সিজেনের স্পর্শেই মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে যায় ওই অণুজীবের দেহাবশেষ। এই হলো লালের রহস্য। আর অদেখা রহস্যটা হলো—ঠিক একই ধরনের লাল পানির জমাট স্রোতের উপস্থিতি দেখা গেছে পৃথিবীর বাইরেও! আর সেটি আছে বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ ইউরোপায়!


মন্তব্য