kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

মরুভূমি

নিষিদ্ধ মরু

আনিকা জীনাত

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিষিদ্ধ মরু

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশ নামিবিয়ার একটি বিরাট এলাকাজুড়েই রয়েছে একটি ন্যাশনাল পার্ক। কিন্তু ন্যাশনাল পার্ক হলেও এখানে প্রায় ১০০ বছর ধরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ।

স্থানীয়ভাবে জায়গাটির নাম স্পেরগেবিট। জার্মান ভাষায় যার অর্থ নিষিদ্ধ এলাকা।

নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, এই পার্কটিতে হীরা পাওয়া যায়। জার্মান শাসনে থাকার সময় এলাকাটি হীরার খনি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ওই সময় হীরা উত্তোলনও শুরু হয়।  

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানরা নিজেদের কর্তৃত্ব হারালে খনি খননের দায়িত্ব পায় ডি বিয়ারস কম্পানি। এর পরে ১৯৯০ সালে নামিবিয়া সরকার তাদের কাছ থেকে স্পেরগেবিটের অর্ধেক অংশ কিনে নেয়।

২০০৮ সালে স্পেরগেবিটকে ন্যাশনাল পার্কে রূপান্তরিত করা হয়। আর এর সীমানায় পড়ে নামিব মরুভূমির ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা।

স্পেরগেবিট বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ হীরার খনি। এখানকার মূল্যবান রত্নগুলো অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় তিন শ কোটি বছর আগে। ভেঙে যাওয়া হীরার টুকরাগুলো মাইলের পর মাইলজুড়ে খুঁজে পাওয়া যায়। ভালো ও অরেঞ্জ নদীর উপকূলেও ছড়িয়ে আছে হীরা। এখনো ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত থেকে হীরা উত্তোলনের কাজ করে ডি বিয়ারস কম্পানি।

তাই পুরো এলাকায় রয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিষিদ্ধ এই এলাকায় প্রবেশ করে হীরাসহ কোনো ব্যক্তি ধরা পড়লে তাকে ১৫ বছর জেলে পচতে হবে। হীরা পাচার ঠেকাতে খনিশ্রমিকদের তল্লাশি করার পর এক্স-রে মেশিনে তাদের পুরো শরীর এক্স-রেও করা হয়।

গ্যাস ট্যাংক কিংবা ট্রাকের ফ্রেমের ভেতরে করে হীরা পাচারের ভয়ে খননকাজে ব্যবহূত যন্ত্রপাতিগুলোও এখান থেকে কখনোই বের করা হয় না।

তবে শুধু ৫ শতাংশ অংশেই চলে হীরা খোঁজার কাজ। বাকি অংশ জনবিরল পরিত্যক্ত একটি মরু এলাকার মতোই পড়ে আছে। মরু এলাকা হলেও এখানকার জীববৈচিত্র্য অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি।

সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পার্কটির কিছু অংশের উন্নয়ন থমকে আছে। তবে কয়েকটি পরিত্যক্ত খনি এলাকাসহ এর কিছু অংশ এখন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরাও বেশ আগ্রহ নিয়ে ভ্রমণে যাচ্ছেন স্পেরগেবিটে।


মন্তব্য