kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিচিত্রা

ডিজিট নামের এক গরিলা আছে

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ডিজিট নামের এক গরিলা আছে

ফ্রান্সে বসবাসরত দম্পতি পিয়েরে ও ইলিয়ান থিভিও ১৮ বছর আগে চার পাউন্ড ছয় আউন্সের ডিজিটকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর একটু একটু করে দিন গড়িয়েছে মাসে, আর মাস গড়িয়েছে বছরে।

চোখের সামনেই ছোট্ট আর হালকা ডিজিটকে বিশাল আর ভারী হয়ে যেতে দেখেছেন পিয়েরে আর ইলিয়ান। চারপাশের মানুষ ভয় পেয়েছে। তবে ভয় পায়নি ডিজিটের অভিভাবক পিয়েরে আর ইলিয়ান। হোক না গরিলা। তাতে কী? ডিজিট তো তাদের সন্তানেরই মতো। কিছুদিন আগ পর্যন্তও মানুষ মা-বাবার সঙ্গেই এক বিছানায় ঘুমিয়েছে ডিজিট। এখন অবশ্য একটু বেশিই বেড়ে গিয়েছে তার শরীর। কিশোরী থেকে যুবতী হয়েছে। আলাদা বিছানা হয়েছে নিজের। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেই ছোট্ট, নরম মনের ডিজিটই রয়ে গেছে আজও। মানুষ মা-বাবা তাকে কখনো কোনো বাজে কিছু শেখার সুযোগই দেয়নি। ফলে পশমওয়ালা বিশাল দেহের আড়ালে নম্র, ভদ্র আর বিনীত হয়ে উঠেছে সে।

ছোটবেলা থেকেই ডিজিটকে নানা আদব-কায়দা শেখানোর চেষ্টা করেছেন পিয়েরে আর ইলিয়ান। চেয়েছেন নিজের কাজ যেন ডিজিট নিজেই করতে পারে। তা সেটা অনেকটাই পারে বটে ডিজিট। তবে এখনো মাঝেমধ্যে কিছু কঠিন কাজে মানুষ মা-বাবার সাহায্য নিতে হয় তাকে।

কলা খেতে ভীষণ ভালোবাসে ডিজিট। ‘১৮ বছর ধরে কলার পেছনে ঠিক কতটা খরচ করেছি আমরা, সেটা না বললে বিশ্বাস করবেন না। ’ হাসতে হাসতে বলেন এই দম্পতি।

১৮ বছর আগে ছোট্ট শিশু ডিজিটকে ফেলে রেখে গিয়েছিল কে যেন। পিয়েরে আর ইলিয়ানের কোনো সন্তান ছিল না। গরিলা শিশুটিকে দেখে মায়া লেগে যায় তাঁদের। ভালোবেসে ফেলেন তাঁরা ওটাকে। ঘরে নিয়ে আসেন। এরপর আর তাঁদের সন্তানের অভাব অনুভব করতে দেয়নি ডিজিট কখনো। তাকে ফিডারে ভরে দুধ খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, বেড়াতে যাওয়া—এভাবেই কেটে গেছে দিনগুলো এই নিঃসন্তান দম্পতির।

তবে কেবল পিয়েরে বা ইলিয়ানই যে ডিজিটকে ভালোবাসেন তা নয়, ডিজিটও প্রচণ্ড ভালোবাসে তাঁদের। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের কাছছাড়া করতে চাইত না সে। একজনকে তার সঙ্গে থাকতে হবেই। তাই ছোটবেলায় কখনোই ডিজিটকে একা ঘরে রেখে বাইরে ঘুরতে যাওয়া হয়নি পিয়েরে-ইলিয়ানের। এমন না যে ডিজিট একা থাকতে পারত না কিংবা হিংস্র হয়ে উঠত। কিন্তু পিয়েরে আর ইলিয়ান কাছে না থাকলে ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায় ডিজিটের।

বাসার পাশেই অসহায় আর একা হয়ে যাওয়া পশুপাখি নিয়ে একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা তৈরি করেছেন এই দম্পতি। বাঘ, সিংহ, শ্বেতভল্লুক, বানর—কোন প্রাণী নেই সেখানে! তবে তার পরও সেখানে ডিজিটকে একলা খুব বেশিক্ষণ রেখে যেতে পারেন না তাঁরা। আর দশটা প্রাণীর মতো নয়, নিজেদের সন্তান হিসেবেই দেখেন এই দম্পতি ডিজিটকে।


মন্তব্য