kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরাতজোরে

আত্মহত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ

কিছু কিছু লোকের ভাগ্য দেখে হিংসা হবে আপনার। তাঁদের এমনই ভাগ্য যে অনেক উঁচু কোনো দালান থেকে পড়ে কিংবা গুলি খেয়েও দিব্যি বেঁচে যায়। কেউ আবার নিশ্চিত জেল-জরিমানার কবল থেকেও রেহাই পেয়ে যায় নেহাত বরাতজোরে। লিখেছেন আনিকা জীনাত

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আত্মহত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ

নিজের ফ্যাশন সচেতনতা যখন আত্মহত্যা করার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য বলা কঠিন। ব্রিটেনের ১৯ বছর বয়সী এডি জোন্স আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল ব্রিস্টলের অ্যাভন নদীর ঝুলন্ত ব্রিজে।

কোট পরে আত্মহত্যা করার চেষ্টা যে বৃথা যাবে, কিশোর ছেলেটি একবারের জন্যও কল্পনা করেনি তা। ২৫০ ফুট ওপর থেকে লাফ দিয়েও সে বাতাসে ভেসেছিল, তা তো শুধু তাঁর ওই কোটটির জন্য। ওটার ভেতরে বাতাস ঢুকে পড়েছিল। ব্রিজে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা অবাক হয়ে দেখল, কোট পরা একটি ছেলে বাতাসে ভেসে আস্তে আস্তে নদীতে নামছে।

এদিকে এডির অবস্থা খারাপ। মরতে যখন পারল না, তখন আর কী করা! নদীর ঠাণ্ডা জল সাঁতরে নিজের জীবনকে আরেকবার সুযোগ দিল সে। ততক্ষণে তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে কয়েকজন পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক। ১৮৬৪ সালে খুলে দেওয়ার পর অন্তত ১০০ জন এই কুখ্যাত ব্রিজ থেকে লাফ দিয়েছে। তবে অতি ভাগ্যবানরা সংখ্যায় খুব কম।

এডির ঘটনার ঠিক ১০০ বছর আগে পানশালার এক কর্মী সারাহ হেনলিও নিজের পোশাকের কল্যাণে প্রাণে বেঁচে যায়। সিনডারেলার মতো ফ্রেম দিয়ে ফোলানো গাউন পরে লাফ দিয়েছিল প্রেমে প্রতারিত সারাহ। তবে তার বিশালাকারের গাউনে বেলুনের বৈশিষ্ট্য ভর করার কারণে নিরাপদে ল্যান্ড করে সে। অপ্রত্যাশিতভাবে বেঁচে গিয়ে অবশ্য লাভই হয়েছিল সারাহর। প্রতারক প্রেমিক তার এমন কাণ্ড-কীর্তির কথা শুনে ছুটে আসে সারাহর কাছে। সব কিছু মিটমাট হলে পরে তারা দুজন বিয়েও করে। এরপর যথারীতি সুখে-শান্তিতে বসবাস করে তারা। সেই তরুণী বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে যাওয়া সারাহর মৃত্যু হয়েছিল ৮৩ বছর বয়সে।


মন্তব্য