kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উৎসব

মাউন্ট ব্রোমো

ফাহমিদা হক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মাউন্ট ব্রোমো

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার এক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ব্রোমো। অগ্ন্যুৎপাতের সময় এর মধ্য থেকে ঘন আর সাদা রঙের সালফার মিশ্রিত ধোঁয়া বের হতে থাকে।

সক্রিয় থাকার সময় এ আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি ভ্রমণ করায় বিধিনিষেধ ধাকলেও অন্য সময় দুই হাজার ৩০০ মিটারের এ চূড়া জনপ্রিয় এক পর্যটনকেন্দ্র। চারপাশের দৃশ্য আর সূর্যাস্ত দেখার জন্যই পর্যটকরা চূড়ায় ওঠেন বেশি।

মাউন্ট ব্রোমোর অবস্থান মূলত বালুময় এক এলাকার মধ্যে, যা ‘সি অব স্যান্ড’ নামে পরিচিত। আর এখানে বাস করে ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্ষুদ্র হিন্দু জনগোষ্ঠী টেনগার গোত্রের প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। প্রতিবছরই এ জনগোষ্ঠীর মানুষ মাউন্ট ব্রোমোর চূড়ায় উঠে যায় খাবার উৎসর্গ করার জন্য। আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকুক বা না থাকুক, তারা পাহাড়ে উঠে আগ্নেয়গিরির গর্ত লক্ষ্য করে খাবার ছুড়ে ফেলবেই। ফল, চাল আর সবজি ছাড়াও জ্যান্ত ছাগল, মুরগি, এমনকি গরুও ছুড়ে ফেলা হয় গর্তের মধ্যে। আর এসব জিনিস পাহাড়ের উদ্দেশে নিবেদন করা আসলে তাদের এক উৎসবের অংশ। ইয়াদনিয়া কাসাদা নামের এ উৎসব চলে প্রায় এক মাস ধরে। এবার এ উৎসব হয়েছে জুলাই মাসজুড়ে।

পুরো লুহুর পোতেন নামে এক হিন্দু মন্দির কর্তৃপক্ষ উৎসবটির আয়োজন করে। উৎসবের ১৪তম দিনে এ মন্দিরে টেনগার গোত্রের লোকেরা জড়ো হয় ভগবানের আশীর্বাদ নিতে। এরপর মাউন্ট ব্রোমো বেয়ে সবাই উঠতে থাকে চূড়ার দিকে। চূড়ায় পৌঁছে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ছুড়ে মারতে থাকে সঙ্গে করে আনা জিনিসগুলো। কেউ কেউ বিপদের তোয়াক্কা না করেই গর্ত বেয়ে নেমে পড়ে উৎসর্গীকৃত জিনিস উদ্ধার করতে। কারণ তাদের বিশ্বাস, উৎসর্গ করা খাবার ফেরত আনা সৌভাগ্যের প্রতীক। বাকিরা আবার জাল দিয়ে জিনিসগুলো ধরার চেষ্টা চালায়।

ইয়াদনিয়া কাসাদা উৎসবের এ রীতির পেছনে রয়েছে এক কাহিনী। বলা হয়ে থাকে, টেনগার মানুষরা নাকি একসময়কার প্রতাপশালী মাজাপাহিত সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী, যারা কিনা ১৩০০ থেকে ১৫০০ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ জায়গাই শাসন করত। পরে ইসলামিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা দখল করলে মাজাপাহিত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। সাম্রাজ্যের অনেকেই টেনগার পর্বতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে ছিল তখনকার রাজা ব্রইজায়ার মেয়ে ও তাঁর স্বামীও।

রাজকীয় এ যুগল ছিল নিঃসন্তান। সন্তানের আশায় তাঁরা দুজন মাউন্ট ব্রোমোর চূড়ায় উঠে পাহাড় দেবতার কাছে সাহায্য চান। পাহাড় দেবতা তাঁদের অনেক সন্তান দেওয়ার আশ্বাস দেন এই শর্তে যে তাঁদের সবচেয়ে ছোট সন্তানকে আগ্নেয়গিরির গর্তে উৎসর্গ করতে হবে। এরপর এ জুটির ২৫টি সন্তান হয়। সর্বশেষ সন্তানটি তাঁরা বিসর্জন দিয়েছেন কি না তা নিয়ে আবার নানা কাহিনী রয়েছে। এক কাহিনী মতে, তাঁরা নিজেদের সন্তান উৎসর্গ করতে আপত্তি জানালে মাউন্ট ব্রোমো রেগে উদগিরণ ঘটায়, আর সেই ধোঁয়ায় তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চাটি হারিয়ে যায়। আরেক মত অনুসারে তাঁরা স্বেচ্ছায়ই নিজেদের বাচ্চা উৎসর্গ করেন।


মন্তব্য