kalerkantho


অন্য রকম

হাতি তাড়াতে মৌমাছি

আনিকা জীনাত

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাতি তাড়াতে মৌমাছি

আকারের হিসাব করলে কোথায় মৌমাছি আর কোথায় হাতি। কিন্তু বিশাল আকারের হাতিই কিনা ভয় পায় পুঁচকে মৌমাছিদের! অবিশ্বাস্য শোনালেও অনেকটা এমন প্রমাণই পেয়েছেন ব্রিটিশ একদল প্রাণিবিদ।

কেনিয়ার কৃষকরা হাতির জ্বালায় অতিষ্ঠ ছিলেন। বনেই হাতিদের বাস। কিন্তু রাতের বেলা প্রায়ই তারা ক্ষেতের ফসল সাবাড় করতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাদের খাবারের চাহিদা তো আর অল্পস্বল্প নয়। ছোট্ট একটি হাতির পালও এক রাতের মধ্যেই সারা বছরের ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। অসহায় ও হতাশ কৃষকদের পক্ষে সাত টন ওজনের হাতির সঙ্গে পেরে ওঠাও প্রায় অসম্ভব।

অবাধে ঘুরে বেড়ানো হাতির পাল বাগে আনতে ব্রিটিশ ওই গবেষকরা তাই কাজে লাগিয়েছেন মৌচাকের বেড়া। যখনই হাতি মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পায়, তখনই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, মৌমাছিভীতি তাদের এতটাই বেশি যে মৌমাছি আশপাশে থাকলেও তারা সঙ্গী হাতিদের দূর থেকে সাবধান করে দেয়।

মৌচাকের এই বেড়াগুলো কেনিয়ার তিসাভো ইস্ট ন্যাশনাল পার্কে তৈরি  করেছেন অক্সফোর্ডের প্রাণিবিদ লুসি কিং ও তাঁর দলের সদস্যরা। খুঁটি, ছাউনি ও বাক্স দিয়ে তাঁরা ৯টি বেড়া তৈরি করে এর মধ্যেই সুফল পেয়েছেন। খুঁটিতে ঝোলানো বাক্সগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে মৌচাক। হাতি বেড়া ডিঙিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে খুঁটিতে বাঁধা তারগুলো কেঁপে উঠবে। আর এতেই বের হয়ে আসবে অগণিত মৌমাছি।

বেড়া প্রকল্পের শুরুটা হয়েছিল ২০০২ সালে। হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে এ ধরনের মৌচাকের বেড়া এখন আফ্রিকা ও এশিয়ার ১০টি দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে। কংক্রিট বা ইলেকট্রিক বেড়ার চেয়ে এই বেড়া স্থাপনের খরচ অনেক কম। বাক্সে মৌমাছি না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। হাতি তাড়াতে মৌচাকের গন্ধই যথেষ্ট।

পরিবেশবান্ধব হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরাও এই বেড়ার কারণে উপকৃত হচ্ছেন। ফসলের পাশাপাশি তাঁরা এখন মধু বিক্রি করেও আয় করতে পারছেন।

তবে হাতি মৌমাছিকে সত্যিই ভয় পায়, নাকি এড়িয়ে চলে সে বিষয়টি গবেষকরা নিশ্চিত করতে পারেননি এখনো। কারণ মৌমাছির হুল হাতির পুরু চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে না। কিন্তু বুদ্ধিমান প্রাণী হওয়ায় হাতি শুধু তার চোখ ও শুঁড় বাঁচাতেই মৌমাছিকে এড়িয়ে চলে। সংবেদনশীল এই জায়গাগুলোয় মৌমাছি কামড়িয়ে ফুলিয়ে দিক, হাতি যে তা কোনোভাবেই চায় না।


মন্তব্য