kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিচিত্রা

মরণঝাঁপ!

নাবীল আল জাহান

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মরণঝাঁপ!

নরওয়ের লোকেরা একটা খেলা আবিষ্কার করেছে। তাদের দেশে প্রতিবছর সে খেলার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেরও আয়োজন করা হয়।

আর সে খেলার নাম ‘ডডসিং’। ইংরেজি করলে হয় ডেথিং, অর্থাৎ মরতে যাওয়ার খেলা। সত্যি সত্যি সে খেলা খেলতে গিয়ে কেউ মারা গেছে কি না কে জানে, তবে আহত আকসারই হয়। কারণ খেলাটাই হলো পানিতে বেকায়দায় পড়ে যাওয়া।

আসলে ব্যাপারটাকে ঠিক বেকায়দায় পড়ে যাওয়া বলা যায় না। এই খেলায় সুইমিংপুলের ১০ মিটার উঁচু বোর্ড থেকে পানিতে ঝাঁপ দিতে হয়। আর সেটি এমন কায়দা করে দিতে হয়, দেখে মনে হয় কেউ বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছে। একেবারে হাত-পা ছড়িয়ে গুণন চিহ্নের মতো করে। আর পানিতে পড়ার ঠিক আগে নড়েচড়ে ঠিকঠাক হয়ে নিতে হয়। নইলে ওভাবে পানিতে পড়লে আর দেখতে হবে না! এমনকি প্যারালাইজডও হয়ে যেতে পারে। আর যে যত বেশিক্ষণ ওই গুণন চিহ্নের মতো বেকায়দায় থাকতে পারে, সে-ই জয়ী হয়।

খেলাটির ইংরেজি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেথ ডাইভিং’। বাংলায় বলা যেতে পারে মরণঝাঁপ।

গত শতকের ষাটের দশকের কথা। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে একটি বিখ্যাত সুইমিংপুল আছে। নাম ফ্রগনারবাডেট পুল। সেখানে কিছু ছেলে ঝাঁপাঝাঁপি করছিল। এলোমেলো খেলতে খেলতেই ওরা খেলাটি আবিষ্কার করে বসে। স্রেফ বন্ধুদের সামনে বীরত্ব ফলাতেই ওরা এমন মরণঝাঁপ দিতে শুরু করে। সেই বাহাদুরি দেখানো থেকেই যাত্রা শুরু করে ডডসিং। একসময় ডডসিংয়ের প্রথম প্রতিযোগিতাও আয়োজিত হয়। তাতে অংশ নিয়েছিল ছয়জন ডাইভার। দর্শক ছিল ডজনখানেক।

তারপর আস্তে আস্তে ডডসিংয়ের দর্শক বাড়তে থাকে। তবে দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে ২০১১ সালে। সে বছর নরওয়েতে গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল ডডসিং অ্যাসোসিয়েশন। তারা প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে ওই ফ্রগনারবাডেট সুইমিংপুলে ওয়ার্ল্ড ডডসিং চ্যাম্পিয়নশিপেরও আয়োজন করে। প্রতিযোগিতাটার কলেবরও প্রতিবছর বাড়ছে একটু একটু করে। শেষবার তাতে অংশ নেয় শখানেক প্রতিযোগী। আর তাদের বেকায়দার সব মরণঝাঁপ দেখতে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।

প্রতিযোগিতা দেখতে আসা মানুষ বিনোদনও কম পায় না। তবে বিচারকদের বিজয়ী নির্ধারণ করতে গিয়ে ঘাম ছুটে যায়। কারণ এখন তো খেলাটার মাপকাঠি আর আগের মতো সরল নেই। কে কত বেশিক্ষণ অমন বেকায়দার ভঙ্গিতে থাকল, ডডসিং এখন আর শুধু তা নিয়েই বসে নেই। এখন বিজয়ী নির্ধারণে এর বাইরে আরো কিছু মাপকাঠিতে বিচার করা হয়—লাফ দেওয়ার আগে বোর্ডে কে কত জোরে দৌড়ে এলো, লাফিয়ে কত উঁচুতে উঠল, কত জোরে ঝাঁপিয়ে পড়ল, পড়ার সময়ের ভঙ্গিমা কতটা বেকায়দার হলো, পানি ছোঁয়ার সময় তার ভঙ্গিমা কেমন হলো, পানিতে পড়ার পর পানি কতটা উঁচু হয়ে চারপাশে ছিটল—এমন নানা কিছু। আবার ফ্রিস্টাইল বলে একটা ক্যাটাগরি আছে, তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার ভঙ্গিটা শুধু বেকায়দার হলেই হয় না, সেটি বেশ দরাজ আর কঠিনও হওয়া চাই।

ইদানীং খেলাটা নরওয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ছে। অবশ্য ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। কারণ পানিতে অমন বেকায়দাভাবে কেউ ঝাঁপিয়ে পড়ছে, সেটি দেখতে দেখতে আর কার লাফে পানি বেশি ছিটল, তার হিসাব করতে করতে ছুটির দিনের বিকেলটা ভালোই কেটে যায়। তাই মানুষও খেলাটায় ভালোই মজছে। অবশ্য মাঝেমধ্যেই দু-একজন একটু বেশিই বেকায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন তাদের একটু-আধটু কেটে-ছড়েও যায়।


মন্তব্য