kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্য প্রাণী ধাঁধা

ইশতিয়াক হাসান   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১.         ডাঙার দ্রুততম প্রাণী কোনটি?

            ক. চিতা। ৮-এ যাবেন।

খ. চিতাবাঘ। ৪-এ যাবেন।

২.         আপনার উত্তরই সঠিক। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা তিন হাজার ৮৯০। আর এর বেশির ভাগই আছে ভারতে। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর আরো কয়েকটি দেশে বাঘ আছে। শর্টকাটে সঠিক উত্তর।

            ১-৮-১৫-১০-১১-১৯-৭-১৬-১৩-৬-২০-১২-২৫-২৭-২১-২৬-২৮-২

৩.        ভুল উত্তর। আবার ১৩-তে যাবেন।

৪.         চিতাবাঘ পৃথিবীর সুন্দর প্রাণীগুলোর একটি। কিন্তু দৌড়ে এমনকি সেরা দশটি প্রাণীর মধ্যেও তার জায়গা হবে না। চিতাবাঘের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬ মাইল। বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এবং আফ্রিকায় চিতাবাঘের দেখা পাবেন আপনি। আবার ১-এ ফিরে গিয়ে চেষ্টা করুন।

৫.         উত্তরটি ভুল। তবে পৃথিবীতে যে দুই প্রজাতির হাতি আছে, তার মধ্যে এশীয় হাতি সবচেয়ে বেশিসংখ্যায় আছে ভারতেই। ফিরে চলুন ২৮-এ।

৬.        ২০০৬ সালে যখন অস্ট্রেলিয়ার চিড়িয়াখানায় মারা যায় তখন তার বয়স ১৭৫। ধারণা করা হয়, চার্লস ডারউইন ১৮৩৫ সালে গেলাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের সময় একে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন ইংল্যান্ডে। পরে কচ্ছপটিকে পাঠানো হয় অস্ট্রেলিয়ায়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, চার্লস ডারউইন একে আনেননি। কারণ হ্যারিয়েটের বাস গেলাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের যে দ্বীপে ছিল, সেখানে ডারউইন যানইনি। চলুন ২০-এ।

৭.         ১৯৯৫ সালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় থাইল্যান্ডে। এতে বন্যা দেখা দেয় সে দেশে। আর বন্যার কারণে কোনো এক জাতের এক শর বেশি প্রাণী নদীর ধারের গর্ত থেকে বেরিয়ে গিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রাণীটির নাম কী?

            ক. কুমির। ১৬-তে চলুন। খ. পিরানহা। আপনার গন্তব্য ২৪। গ. ভোঁদড়। ৩০-এ যাবেন।

৮.        চমৎকার শুরু। ঘণ্টায় ৬৮ থেকে ৭৫ মাইল পর্যন্ত গতিবেগে দৌড়াতে পারে চিতা। তবে প্রাণীরাজ্যের সবচেয়ে দ্রুততম প্যারেগ্রিন ফ্যালকন। এর ডাইভ দেওয়ার গতি ২৪২ মাইল। চিতার দেখা পাবেন মূলত পূর্ব আর দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে ইরানেও অল্প কিছুসংখ্যক চিতা টিকে আছে। চিতার আরেক নাম হান্টিং ল্যাপার্ড। চিতা নিয়ে লেখক রেনে জুইয়র চমৎকার একটি উপন্যাস আছে। এবার চলুন ১৫-তে।

৯.         দুঃখিত, উত্তরটি সঠিক নয়। আবার যাবেন ১৩-তে।

১০.       সঠিক উত্তর। পৃথিবীর সবচেয়ে কম গতির প্রাণী থ্রি টোড শ্লথ। এদের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় .০০৩ মাইল। এরা এতই ধীর যে শরীরে শৈবাল জন্মে যায়। শ্লথ শব্দটির অর্থও হলো ধীরগতি। এদের দেখা পাবেন দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায়। দিনের একটা বড় সময় ঘুমিয়ে কাটায় এরা। এবার চলুন ১১-তে।

১১.       সবচেয়ে ছোট পাখি কোনটি?

            ক. গোল্ডক্রেস্ট। আপনার গন্তব্য ২৩। খ. বি হামিংবার্ড। ১৯-এ চলুন।

১২. চমৎকার। উত্তর একদম সঠিক। পৃথিবীর বৃহত্তম বন আমাজনের রাজা জাগুয়ার। ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে এখন ১৫ হাজারের মতো জাগুয়ার বেঁচে আছে। এদের বেশির ভাগের বাস আমাজনের জঙ্গলে। বিশাল এই অরণ্যের আয়তন ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার। এবার আপনার গন্তব্য ২৫।

১৩.      হ্যারিয়েট নামের গেলাপাগোস টরটয়স বা গেলাপাগোস কচ্ছপটি কত বছর বেঁচেছিল।

            ক. ১০০। ৩-এ যাবেন। খ. ১৭৫। ৬-এ চলুন। ৯. ৩৭৫। যাবেন ৯-এ।

১৪. ভুল উত্তর। সিংহ খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে।

১৫. সবচেয়ে কম গতির জানোয়ার কোনটি?

            ক. শ্লথ। ১০-এ চলুন। খ. কোয়ালা। ১৭-তে যাবেন। গ. সিংহ। ১৪-এ দেখুন।

১৬.      আপনার উত্তর সম্পূর্ণ সঠিক। এক শর বেশি কুমির, যাদের কোনো কোনোটির আকার ১৩ ফুট, বন্যায় পানি বাড়ার সুযোগ নিয়ে নদীর ধারের গর্ত থেকে পালায়। থাইল্যান্ডে কুমির চাষ করা হয় এদের মাংস আর চামড়ার জন্য। এবার চলুন ১৩-তে।

১৭. হলো না। অস্ট্রেলিয়ায় বাস করা এই প্রাণীদের কখনো কোয়ালা বিয়ারও বলা হয়। যদিও এরা আসলে ভালুক নয়। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতির প্রাণী না হলেও এরাও বেশ ধীরগতিরই। একটি কোয়ালা সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বাঁচে। আবার ১৫-তে ফিরে চলুন।

১৮. দুঃখিত, আপনার উত্তরটি সঠিক নয়। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাপ বলতে পারেন এদের। অজগরদের বেশ কয়েকটি জাত আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা হয় রেকটিকুলেইটেড পাইথন বা গোলবাহার অজগররা। আবার যাবেন ২১-এ।  

১৯. একদম সঠিক উত্তর। কিউবায় এই পাখিদের বাস। পুরুষ পাখির লেজসহ দৈর্ঘ্য ২.২৪ ইঞ্চি, মেয়েরা আরেকটু বড় হয়। চলে যান ৭-এ।

২০. জাগুয়ারের দেখা পাবেন কোন জঙ্গলে?

            ক. কঙ্গো রেইনফরেস্ট। চলুন ২২-এ।

            খ. আমাজন। যেতে হবে ১২-তে।

            কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক। যাবেন ৩১-এ।

২১. পৃথিবীর বৃহত্তম সাপ কোনটি?

            ক. অ্যানাকোন্ডা। চলুন ২৬-এ। খ. অজগর। যাবেন ১৮-তে।

২২.        দুঃখিত, আপনার উত্তরটি ভুল। তবে আমাজনের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট হলো কঙ্গো রেইনফরেস্ট। মধ্য আফ্রিকার এই অরণ্যের আয়তন ১৫ লাখ বর্গকিলোমিটার। জাগুয়ার না থাকলে কী হবে। এখানে পাবেন গরিলা আর ওকাপির মতো মহা দুর্লভ বন্য প্রাণীদের।

২৩.       দুর্ভাগ্যজনকভাবে সঠিক উত্তর নয় এটি। তবে গোল্ডক্রেস্ট গোটা পৃথিবীর না হলেও ইউরোপের খুদে পাখিগুলোর একটি। সোনালি রঙের ঝুঁটির কারণে এমন নাম পেয়েছে পাখিটি। ১১-তে ফিরে চলুন।  

২৪.       দুঃখিত, ধারালো দাঁতের হিংস্র এই মাছেদের এই ঘটনায় কোনো অবদান নেই। চলুন ৭-এ।

২৫.       উল্লুকের দেখা পাবেন নিচের কোন বনটিতে?

            ক. মধুপুরের বন। খুঁজুন ২৯-এ। খ. কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক। চলে যান ২৭-এ।

২৬.       সঠিক উত্তর। পৃথিবীর বৃহত্তম সাপ অ্যানাকোন্ডা। সাধারণত অ্যানাকোন্ডা বলতে গ্রিন বা সবুজ অ্যানাকোন্ডাদেরই  বোঝানো হয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী সাপ। তবে দৈর্ঘ্যের দিক থেকে অ্যানাকোন্ডাদের টেক্কা দেয় রেকটিকুলেইটেড পাইথন বা গোলবাহার অজগররা। অ্যানাকোন্ডাদের স্বাভাবিক ওজন ২০০ থেকে ২৫০ পাউন্ড।   দৈর্ঘ্য সাধারণত ১৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। তবে কেউ কেউ ৫০ ফুট পর্যন্ত জায়ান্ট অ্যানাকোন্ডা থাকার গল্প বলেন। কিন্তু এ ধরনের অনেক কাহিনী প্রচলিত থাকলেও নিশ্চিত কোনো প্রমাণ মেলেনি। এখন যেতে হবে ২৮-এ।  

২৭. একদম ঠিক। লম্বা হাতের উল্লুকরা এক ডাল থেকে আরেক ডালে দোল খেয়ে খেয়ে বিশাল দূরত্ব পাড়ি দেয়। বাংলাদেশের যে কয়েকটি বনে এই উল্লুকরা আছে, তার একটি পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক। এই বনে উল্লুক ছাড়াও আছে বুনো হাতি, মেঘলা চিতাসহ আরো অনেক প্রাণী। আপনার এবারকার গন্তব্য ২১।

২৮. ভারতের জাতীয় পশু কোনটি?

            ক. বাঘ। চলুন ২-এ। খ. হাতি। যেতে হবে ৫-এ।

২৯. ভুল উত্তর। মধুপুর গড়ে উল্লুক নেই। শালগাছের এই জঙ্গলে একসময় অনেক প্রাণীর বাস থাকলেও এখন এখানে পাবেন কেবল বানর, মায়া হরিণসহ আরো কিছু জাতের প্রাণী। ফিরে যান ২৫-এ।

৩০. না, এই চমৎকার প্রাণীটি কাউকে এমনকি ভয়ও দেখায় না। বরং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জেলেরা এদের সাহায্যে মাছও ধরে। ৭-এ ফিরে চলুন।

৩১.      দুঃখিত। উত্তরটি ভুল দিয়েছেন। কাজিরাঙ্গায় জাগুয়ার নেই। বনটি বিখ্যাত গণ্ডারের জন্য। পৃথিবীর মোট জীবিত এক শিংয়ের গণ্ডারের তিন ভাগের দুই ভাগই আছে আসামের এই সংরক্ষিত বনটিতে।

 

 

অঙ্কন : মানব

 

 

 

 

 


মন্তব্য