kalerkantho

26th march banner

অন্য রকম

চার ফুট ইঁদুর!

নাবীল আল জাহান

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



চার ফুট ইঁদুর!

একটি ইঁদুর কত বড় হতে পারে? যদি বলা হয়, ছোটখাটো একটি কুকুরের সমান কোনো ইঁদুরের কথা, বিশ্বাস হবে? তেমনই এক ইঁদুরের সন্ধান পাওয়া গেছে লন্ডনে। অবশ্য জীবিত পাওয়া যায়নি। প্রায় চার ফুট লম্বা ইঁদুরটির মৃতদেহ আবিষ্কার করেন মাটির নিচে গ্যাসলাইনের কাজ করতে থাকা কয়েকজন।

 

বিশাল এই ইঁদুরের মৃতদেহটির সন্ধান মিলেছে পূর্ব লন্ডনের হেকনে অঞ্চলের আমহার্স্ট স্ট্রিটে। রাস্তাটির কাছেই গ্যাসলাইনের কাজ করছিলেন কয়েকজন। বিশাল মরা ইঁদুরটি পেয়ে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তাঁরা। তারপর যখন ওটা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিচ্ছিলেন, তখনই গ্যাস ইঞ্জিনিয়ার টনি স্মিথের মাথায় আসে, এই ইঁদুরের কথা এমনি এমনি বললে তো আর কেউ বিশ্বাস করবে না। অতএব, মরা ইঁদুরটি ফেলে দেওয়ার আগে ইলেকট্রিশিয়ান জেমস গ্রিন ওটার ছবিও তুলে রাখলেন।

আর সেই ছবি প্রকাশ হতেই লন্ডনে শোরগোল পড়ে গেল। অনেকেই অবিশ্বাসের আঙুল তুলল। কেউ বলল, এটা বানানো ছবি। কেউ বলল, ক্যামেরার কারসাজি। ক্যামেরার অ্যাংগেলের কারণে ইঁদুরটি এত বড় লাগছে। অনেকে আবার এই বিশাল আকারের ইঁদুরদের উপদ্রব শুরু হলে শহরজুড়ে কেমন বিপদ নেমে আসবে, তা-ই ভেবে আকুল হয়ে ওঠল। পশু বিশেষজ্ঞদের অবশ্য ভাবাল অন্য একটি বিষয়। এত বড় ইঁদুর কোত্থেকে এলো?

মরা ইঁদুরটি ফেলে দেওয়ায় সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয়নি। এটার সঠিক ওজন-আয়তনও নির্ধারণ করা যায়নি। টনি-গ্রিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইঁদুরটি লম্বায় প্রায় চার ফুট। আর ওজন ২৫ পাউন্ডের মতো। মানে ১১ কেজির খানিকটা বেশি। সব দেখেশুনে বিশেষজ্ঞদের মত, ওটা ছিল গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুর। বাড়ি মূলত আফ্রিকা। নামের ‘গাম্বিয়া’ অংশটি মূলত আফ্রিকার একটি দেশের নাম। এই ইঁদুরগুলো এমনিতেই গা-গতরে বড়সড় হয়। ইঁদুরদের মধ্যে ওরাই সবচেয়ে বড়। গড়ে লম্বায় তিন ফুট হয়। ওজনও হয় একেকটার দেড় কেজির মতো। নিশাচর এই ইঁদুররা চোখে তেমন ভালো দেখে না। তবে ঘ্রাণশক্তি বেশ প্রখর। আর বুদ্ধিমানও বটে। ২০০৯ সালে মোজাম্বিকে মাটিতে পোঁতা মাইন খুঁজে বের করার জন্য এই ইঁদুরদের ব্যবহার করা হয়েছিল। সে কাজের জন্য ৩০টি গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সম্ভবত আমহার্স্ট স্ট্রিটের আশপাশে কেউ এই ইঁদুর পুষতে নিয়ে এসেছিল। এরা নাকি ভালোই পোষ মানে। পোষা প্রাণী হিসেবে কদরও আছে বেশ। ইংল্যান্ডে পোষা প্রাণীর দোকানগুলোতে এই ইঁদুরদের দামও কম নয়। একেকটা ২০০ ইউরো বা ষোলো হাজার টাকার বেশিতে বিকোয়। পরে কোনো কারণে ওটা মালিকের বাসাছাড়া হয়ে যায়। আর মানুষের ফেলে দেওয়া ফাস্টফুডের উচ্ছিষ্ট খেয়ে এমন ধুমসো হয়ে ওঠে। অমন উচ্ছিষ্ট খেতে খেতেই কোনো একদিন ওর কপালে বিষ জুটে যায়। কিংবা বিষাক্ত কোনো খাবার। তাতেই সম্ভবত মারা যায় ধেড়ে ওই ইঁদুরটা। মৃত্যুটা সম্ভবত খুঁজে পাওয়ারও বেশ কিছুদিন আগে ঘটে। তাই ইঁদুরটার মৃতদেহ আরো ফুলে-ফেঁপে ওঠে। সব মিলিয়ে ছোটখাটো কুকুরের আকারের হয়ে ওঠে ওটা।

তবে ব্যাপারটা নিয়ে লন্ডনবাসীদের খুব একটা আহ্লাদিত হওয়ার সুযোগ নেই। ওটা যদি বিচ্ছিন্ন একটি ইঁদুর হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্য তেমন বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে সত্যিই যদি হেকনের মাটির তলায় এই আফ্রিকান ইঁদুরদের বংশবিস্তার ঘটে থাকে, তাহলে লন্ডনবাসীদের কপালে সত্যিই খারাবি আছে। কারণ উত্পাত জুড়তেও পুরুষ গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুররা নেহাত কম যায় না।


মন্তব্য