kalerkantho


দরজার ওপাশে

পরিত্যক্ত সব মূর্তি

আমেরিকার মাউন্ট রাশমোরের মূর্তিগুলো দেখে অনুপ্রাণিত হন ভাস্কর ডেভিড অ্যাডিকেস। আর তৈরি করেন আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের চমত্কার কিছু আবক্ষ মূর্তি। -লিখেছেন ফাহমিদা হক

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



পরিত্যক্ত সব মূর্তি

আমেরিকার বিখ্যাত চার প্রেসিডেন্ট—জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন আর থিওডর রুজভেল্টের মূর্তিগুলোর কথা জানেন অনেকেই। আমেরিকার সাউথ ডাকোটার ব্ল্যাক হিলস ন্যাশনাল ফরেস্টের মাউন্ট রাশমোরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের অংশে খোদাই করে বানানো মূর্তিগুলো সত্যিই অসাধারণ।

ভাস্কর গাটসন বুগলেমের নেতৃত্বে ১৯২৭ সালে শুরু হওয়া মূর্তি খোদাইয়ের কাজ শেষ হয় ১৯৪১ সালে। ৬০ ফুট লম্বা মূর্তিগুলো বানানোর জন্য সাড়ে চার লাখ টন পাথর সরাতে হয় তাদের, কাজ করেন প্রায় ৪০০ শ্রমিক। ‘শ্রাইন অব ডেমোক্রেসি’ নামের এ শিল্পকর্মটি দেখতে প্রতিবছর ২০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে।

আমেরিকার হিউস্টনের ভাস্কর ডেভিড অ্যাডিকেস নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যান মাউন্ট রাশমোরে। মূর্তিগুলো দেখে দারুণ শিহরিত হন তিনি। তবে এত উঁচুতে নাগালের বাইরে সেগুলো থাকায় খানিকটা দুঃখও পান। তখনই এডিকেসের মাথায় আসে নিজের দেশের প্রেসিডেন্টদের মাথার মূর্তি এমনভাবে তৈরি করা আর রাখা, যাতে দর্শনার্থীরা সেগুলো দেখতে আর স্পর্শ করতে পারে।

যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০৩ সালে টেক্সাসের হান্টসভিলে স্যাম হিউস্টনের এক মূর্তি বানান অ্যাডিকেস, আর এর সাফল্য দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে নিজেই এক ‘প্রেসিডেন্টস পার্ক’ বানিয়ে ফেলেন।

মাউন্ট রাশমোরের ৪০ মাইল দূরে লিড টাউনে ছিল সেই পার্ক।

পার্কের জন্য মূর্তি বানানোর কাজে নামা অ্যাডিকেস টেক্সাসে নিজের স্টুডিওতে কাজ শুরু করেন। প্রথমে পলিস্টাইরিন আর প্লাস্টার দিয়ে মণ্ড বানান। এরপর সাদা পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট ঢেলে দেন মণ্ডে, যার সাহায্যে বানান ৪৩ জন প্রেসিডেন্টের আবক্ষ মূর্তি। ১৬ থেকে ২০ ফুট লম্বা মূর্তিগুলোর ওজন ১৮ টন করে। মূর্তিগুলো বানানো শেষ হলে হিউস্টন থেকে নেওয়া হয় লিডে। সেখানে কাঠের মধ্যে রাখা হয় সেগুলো।

একই বছর অ্যাডিকেস দ্বিতীয় আরেকটি প্রেসিডেন্টস পার্ক খোলেন ভার্জিনিয়ার উইলিয়ামসবার্গে, আর তৃতীয় পার্কটি খোলেন নিজ শহর হিউস্টনে। এডিকেসের ইচ্ছা ছিল, উদ্দেশ্য সফল হলে আরো কয়েকটি পার্ক খুলে বসবেন আমেরিকার আরো কিছু জায়গায়। কিন্তু বিধি বাম! মানুষের কাছ থেকে তেমন আশাব্যঞ্জক সাড়া না পাওয়া, সেই সঙ্গে আর্থিক টানাটানির কারণে ২০১০ সালে তিনটি পার্কই বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর বিশাল মূর্তিগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হওয়া শুরু হয়েছে। অবশ্য কিছু কিছু মূর্তি এর মধ্যেই বেশ কিছু হোটেলের লন আর পার্কের শোভা বাড়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


মন্তব্য