kalerkantho


পত্রিকার পাতা থেকে

সাপের সঙ্গে একই বাক্সে

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



সাপের সঙ্গে একই বাক্সে

পত্রিকার পাতায় কত বিচিত্র কাহিনী ছাপা হয়। এর অনেকগুলোরই নায়ক মানুষ, কোনোটির আবার বানর কিংবা মোরগের মতো কোনো পশুপাখি।

বিদেশি বিখ্যাত-অখ্যাত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আশ্চর্য সব বিষয় নিয়ে আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। জানাচ্ছেন ফাহমিদা হক

 

রেকর্ড করার আশায় যে মানুষ কত আজব কাজ করতে পারে, তার বড় প্রমাণ দক্ষিণ আফ্রিকার জন বেরি। তাঁর আশ্চর্য আর ভয়ংকর কাজের বর্ণনায় একসময় ভরে যেত পত্রিকার পাতা। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের গ্রীষ্মকালের প্রায় পুরোটাজুড়েই পত্রিকার পাতা গরম করে রাখত জন বেরির সাহসী কাজকর্ম। তখন তাঁর বয়স মোটে ২১। কী করতেন আসলে তিনি? বেরি ছিলেন সাপপাগল মানুষ, সাপ আর শুধু সাপই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। যাঁর জীবন এমন ‘সাপময়’, তিনি যে সাপ নিয়ে পাগলামো করবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। তবে আজব বেরি যে কাজটা করলেন, তা ছিল মারাত্মক বিপজ্জনকও। সেবার নর্থ ওয়েলসের রাইল নামের জায়গায় সমুদ্রের সামনে বসা এক মেলায় বেরি নিজেকে বন্দি করে নেন একটি গ্লাস ট্যাংকের ভেতরে।

আর তাঁর সঙ্গী ছিল মোট ২২টি বিষাক্ত সাপ! এগুলোর মধ্যে ছিল আবার ১০টি কোবরা আর দুটি শঙ্খিনী। বেরির এমন দারুণ ‘সাপে-মানুষে’ সহাবস্থানের প্রচেষ্টার কিছুদিনের মাথায় একটি কোবরা খেয়ে সাবাড় করে দেয় এক শঙ্খিনীকে! অবস্থা আরো বেগতিক হয়, যখন বেরিকে কামড় মেরে বসে এক পাফ অ্যাডার! তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। মোট পাঁচ সপ্তাহ বিষাক্ত সব সাপের সঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন জন বেরি। এত কিছু করার পরও কিন্তু সাপের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর বিশ্বরেকর্ড ছুঁতে পারেননি বেরি। হাসপাতাল থেকে ফিরেও সাপ নিয়ে নানা ভয়ানক কাণ্ডকীর্তি করে দেখিয়েছেন বেরি।


মন্তব্য