kalerkantho


বিচিত্রা

শয়তানের সেতু!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শয়তানের সেতু!

সে অনেক বছর আগের কথা। তখনো আজকের মতো এত সভ্যতার চকমকানি ছড়িয়ে পড়েনি চারপাশে।

মানুষের শরীরে তখনো ছিল প্রকৃতির আদিমতার ছোঁয়া। ঠিক সে সময়ই নিজেদের চলাফেরার কাজটা সহজ করে তোলার জন্য ব্রিটেনের মুরস অব ডেভনস আর তার আশপাশের এলাকায় বসবাসরত মানুষরা বুদ্ধি খাটিয়ে নির্মাণ করে বেশ কিছু সেতু। সরু খাল পেরোনোর জন্য পাথর দিয়ে বানানো এই সেতুগুলোয় না ব্যবহার করা হয়েছিল বালি, না সিমেন্ট! কেবল পাথরের স্তূপের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাগুলোয় মসৃণ পাথরের টুকরো বসিয়ে দিয়েছিল! ব্যস! এতেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল সেই অসাধারণ সেতু। নাম যার ক্ল্যাপার ব্রিজ বা ক্ল্যাপার সেতু।

ভাবছেন, ক্ল্যাপার কেন হলো এর নাম? মূলত ক্ল্যাপার নামটি এসেছে অ্যাংলো-স্যাক্সন শব্দ ক্লিয়েকা থেকে। যার অর্থ পা রাখার পাথরগুলো জোড়া লাগানো। এ থেকে ধারণা করা হয়, প্রথমদিককার ক্ল্যাপার সেতুগুলো তৈরি করা হয়েছে পা ফেলার জন্য ব্যবহার করা পাথরগুলোর ওপর পাথরের মসৃণ চাঁই বসিয়ে। বেশির ভাগ ক্ল্যাপার সেতুই মধ্যযুগে তৈরি করা হলেও কিছু কিছুর বয়স সত্যিই মানুষের অনুমানেরও বাইরে।

তবে বয়স যত বেশিই হোক না কেন, এখনো পর্যন্ত অনেক ক্ল্যাপার সেতু দিব্যি টিকে আছে।

আর সেগুলোর ভেতর অন্যতম বিখ্যাত একটির নাম হচ্ছে টার স্টেপস। সমারসেটের বার্লে নদীর ওপর এক্সমুর ন্যাশনাল পার্কে এটি অবস্থিত। ৫৫ মিটার লম্বা সেতুটি লন্ডনের দীর্ঘতম ক্ল্যাপার সেতু হিসেবেও পরিচিত। নদীর কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় সেতুটি কখনো কখনো বেশ নাজুক হয়ে পড়ে। নদীর পানি উপচে পড়ে ডুবিয়ে দেয় সেতুটিও। এ কারণে সেতুটি প্রায়ই পরিষ্কার করা হয়।

বিখ্যাত এই টার স্টেপসের জন্ম কত সালে, বয়সটাই বা কত, তা আন্দাজ করা মুশকিল। অনেকেই মনে করেন এটি ব্রোঞ্জ যুগের সৃষ্টি। কেউ আবার বলেন, টারের জন্ম ১৪০০ সালের আশপাশে। স্থানীয় রূপকথা অনুসারে শয়তান সূর্যস্নানের সুবিধার্থে নিজেই তৈরি করেছিল এই সেতু। অন্য রূপকথা অনুযায়ী, শয়তান এই সেতুর নির্মাণ কখনোই পুরো শেষ করতে পারেনি। কারণ তার বহন করা পাথরগুলো পড়ে গিয়েছিল। সে নাকি প্রথম যে এই সেতু পার হবে তাকে ধ্বংস করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বুদ্ধি করে স্থানীয় লোকেরা একটা বিড়াল পাঠায় সেতু দিয়ে। ওটি টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। আর এতেই প্রথম যে লোক সেতু পার হয় সে বেঁচে যায়।

প্রায় ২০০ বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে টার সেতু। বর্তমানে প্রতিবছর দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসে সেতুটি দেখতে।


মন্তব্য