kalerkantho

বরাত জোরে

মাত্র ছয়বার

কিছু কিছু লোকের ভাগ্য দেখে হিংসে হবে আপনার। তাঁদের এমনই ভাগ্য যে অনেক উঁচু কোনো দালান থেকে পড়ে কিংবা গুলি খেয়েও দিব্যি বেঁচে যায়। কেউ আবার নিশ্চিত জেল-জরিমানার কবল থেকেও রেহাই পেয়ে যায় নেহাত বরাত জোরে। লিখেছেন আনিকা জীনাত

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মাত্র ছয়বার

৩৫ বছর বয়সী সিজার বিউদথ এমন একজন মানুষ, যাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বোমা। তাই বলে তাঁকেই আবার কোনো উগ্রবাদী কিংবা লুটেরা দলের সদস্য ভেবে বসবেন না। আসলে এ পর্যন্ত ছয়বার কাকতালীয়ভাবে বোমা বিস্ফোরণের কবল থেকে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। প্রথম পাঁচবার বোমা ফাটে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টের ইউরোপিয়া হোটেলে অবস্থান করার সময়। সেখানে এমনই পরিস্থিতি ছিল যে প্রতি রাতেই হোটেলবাসীরা বোমার শব্দ শুনে ঘুমাতে যেত। এটা এতটাই গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল যে শব্দ শুনেও বিছানা থেকে উঠত না তারা। তবে প্রতিবারই বেঁচে যাওয়ার পর সিজার বিউদথ নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতেন।

কিন্তু লেবাননের বৈরুতের মাউন্ট হোটেলের ভেতরে যেবার বোমা ফুটল, সেবারই প্রথম সিজার বুঝতে পারলেন ভয় জিনিসটা আসলে কী রকম। ঘুমাতে যাবেন, এ সময়ই হোটেলের করিডরে ভয়ংকর বিস্ফোরণ শুনলেন। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে সিজার নিচে নামলেন। অন্তর্বাস পরা অবস্থায়ই দরজা খুললেন।

তারপর প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেলেন। হোটেলের করিডরে আহতরা আহাজারি করছে। গ্রিক, ইরানিয়ান একসঙ্গে গাদাগাদি করে পড়ে আছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অন্যান্য রুমের মানুষ শুধু আগুন আগুন বলে চিত্কার করছিল।

কপালটা তাঁর আসলেই অনেক ভালো। এ নিয়ে ছয়বার তাঁর আশপাশে বোমা ফুটলেও এবারই প্রথম তাঁর ভয় নামক অনুভূতিটার সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। সিজারের ভাষায়, ‘শব্দ শুনেই আমি বুঝেছিলাম এটা বোমার শব্দ। কিন্তু তখন পালানোর কথা মাথায় আসেনি। বেঁচে গেছি বলে অনেক ভালো লাগছে। তবে স্বীকার করছি, প্রথমেই দৌড় দেওয়া উচিত ছিল। ’


মন্তব্য