kalerkantho

25th march banner

আবিষ্কার

জলদস্যুর কঙ্কাল

এডিনবার্গে খুঁজে পাওয়া গেছে জলদস্যুর কঙ্কাল। আর এ নিয়ে লিখেছেন শাদমান আলম

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জলদস্যুর কঙ্কাল

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের ভিক্টোরিয়া প্রাইমারি স্কুলের সম্প্রসারণের জন্য জরিপ চলছিল। দেড় শ বছরেরও বেশি পুরনো এই স্কুল এডিনবার্গের সবচেয়ে পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর অবস্থান নিউহ্যাভেন হার্বারের কাছে বলে জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ধারণা ছিল। তারা হয়তো মাটি খননের কোনো একপর্যায়ে প্রাচীন নৌবন্দরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাবে। কিন্তু তার বদলে তারা পেল একটি পুরনো কঙ্কাল। শুরুতে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেছিলেন, কঙ্কালটি প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো হবে। তবে কার্বন ডেটিং করতেই জানা গেল, এটি মাত্র ষোড়শ-সপ্তদশ শতকে মৃত্যুবরণ করা এক ব্যক্তির। তার পরই গবেষণা শুরু হলো কঙ্কালটির পরিচয় উদ্ধারে।

পঞ্চদশ শতকের গোড়ার দিকে স্কটিশ রাজা এডিনবার্গে একটি বড় আকারের নৌবন্দর স্থাপন করেন। ধীরে ধীরে এটি ব্যস্ত বন্দরে পরিণত হয়, জলদস্যুদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ৬০০ বছর আগে নিউহ্যাভেন নামক জায়গাটিতে ব্যাপক হারে ফাঁসি দেওয়ার চল ছিল। বেশি ফাঁসি হতো ডাইনি আর জলদস্যুদের। তখন কোনো বড় অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর লাশ কয়েক সপ্তাহ ঝুলিয়ে রাখা হতো, খুব সম্ভব অন্যদের সতর্ক করার জন্য। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, খুঁজে পাওয়া কঙ্কালটিও একজন জলদস্যুর। কঙ্কালটি নিউহ্যাভেনের নৌবন্দরের কাছের পতিত জমিতে পাওয়া গেছে বলেই এ রকম ধারণা করা হচ্ছে। নিউহ্যাভেন এলাকায় তিনটি পুরনো কবরস্থান রয়েছে, যেখানে সাধারণত এখানকার পুরনো বাসিন্দাদের কবর দেওয়া হতো। কিন্তু এই কঙ্কালটি ওই কবরস্থানগুলোর কোনোটিতে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর সাগরের কাছাকাছি ওই জায়গায় কবর দেওয়া হয়। এমনকি কঙ্কালের কিছু হাড়ের অবস্থা পরীক্ষা করে এটাও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মৃত্যুদণ্ডের পর লাশ বেশ কিছুদিন প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ফেসিয়াল রিকন্সট্রাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির কঙ্কাল থেকে তার চেহারার আকৃতি কেমন ছিল, তার একটা প্রতিলিপি তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর সময় তার বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি ছিল বলেও জানা গেছে।

এদিকে ভিক্টোরিয়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীরা জলদস্যুর এই কঙ্কাল পাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো রোমাঞ্চিত। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানান, গবেষকরা কিভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজগুলো করেছেন, তা শিক্ষার্থীদের জানানো হবে। এতে তারা নতুন কিছু শিখতে পারবে।


মন্তব্য