kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


এত নীল কোথায় পেলে নদী!

ধ্রুব নীল

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এত নীল কোথায় পেলে নদী!

নদীটার বুকে অনেক কষ্ট। তাই তো মনে হয়! তা না হলে জল এত নীল কেন? কোস্টারিকার টেনোরিও ভলকানো ন্যাশনাল পার্কের গহিনে একবুক নীল নিয়ে নীরবে বয়ে চলছে রিও সেলেস্তে। সাওয়ার ক্রিক ও গুড ভিউ নামে আরো দুই নদীর সঙ্গমস্থল থেকেই এ নদীর শুরু। আর শুরু থেকেই নীলে নীলাম্বরী। যেন কেউ সারি সারি নীল রং ঢেলে দিয়েছে নদীতে!

এ নীলের রহস্য নিয়ে মাথা খাটিয়ে মরেছেন বিজ্ঞানীরাও। একেকজন এগিয়ে এসেছেন একেক তত্ত্ব নিয়ে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যটা সম্ভবত দুই নদী থেকে রিও সেলেস্তেয় আছড়ে পড়ছে একরাশ সালফার আর কপার অথবা ক্যালসিয়াম কার্বনেট। এসবের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায়ই এমন রং পায় নদীটা। ‘মিয়ে স্ক্যাটারিং’ বলেও বিজ্ঞানের একটা বিষয় আছে। সেই সূত্র মতে—নদীর পানিতে মিশে থাকা খুদে খনিজ উপাদানের কণাগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে যেতে থাকলে, সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে এ রং তৈরি হয়।

আবার কেউ কেউ বলছেন, ওই পানিতে আছে অজস্র অ্যালুমিনোসিলিকেট। অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় তৈরি হয় এটা। তাতেই সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে নীলাভ আভা ছড়ায়। তাহলে গুড ভিউ রিভারের পানি নীল দেখায় না কেন? পরিষ্কার উত্তর কারো জানা নেই যদিও, তবে সূত্র মিলেছে অপর নদী সাওয়ার ক্রিকে। সাওয়ার তথা টক নামটার কারণ আছে। ওই নদীর পানিতে আগ্নেয়গিরির লাভা মিশে পানিতে এসিডের মাত্রা দিয়েছে বাড়িয়ে। তাই রহস্যের চূড়ান্ত সমাধানটা হলো—সাওয়ার ক্রিকের এসিড আর গুড ভিউর খনিজ; এ দুটি এসে এক হয় রিও সেলেস্তেতে। তাতেই জমাট বাঁধে অ্যালুমিনোসিলিকেট। কাজ করে স্ফটিকের মতো আর সূর্যের আলো পেলেই ছড়ায় আভা।

রিও সেলেস্তে দেখতে চাইলে যেতে হবে কোস্টারিকার লা ফরচুনা বা বিজাগুয়া নামক শহরে। দুই দিক থেকেই যাওয়া যায়। পার্কের আশপাশে থাকার মতো হোটেলেরও অভাব নেই। লা ফরচুনা থেকে পার্কের মূল অফিস দুই ঘণ্টার পথ।


মন্তব্য