kalerkantho


পত্রিকার পাতা থেকে

অ্যালিগেটরের শহর ভ্রমণ

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অ্যালিগেটরের শহর ভ্রমণ

ফ্লোরিডার গলফ মাঠে অ্যালিগেটর

পত্রিকার পাতায় কত বিচিত্র কাহিনী ছাপা হয়। এর অনেকগুলোরই নায়ক মানুষ, কোনোটির আবার বানর কিংবা মোরগের মতো কোনো পশুপাখি।

বিদেশি বিখ্যাত-অখ্যাত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আশ্চর্য সব বিষয় নিয়ে আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। জানাচ্ছেন ফাহমিদা ঘশ

 

আমেরিকার অন্যতম ব্যস্ত শহর নিউ ইয়র্ক। নানা ঘটনায় ভরপুর এ শহরের খবরের কাগজের পাতা উল্টালে চোখে পড়বে অনেক রকম খবরই। আর এসব খবরের মধ্যে প্রায়ই চোখে পড়ে এমন এক খবর, যা পড়লে যে কারোরই পিলে চমকে উঠবে। আর এটা নিউ ইয়র্ক শহরের স্যুয়ারেজ লাইনের মধ্যে বাস করা অ্যালিগেটরদের (এক জাতের কুমির) নিয়ে, যারা নাকি মাঝেমধ্যেই অন্ধকার জগত্ ছেড়ে বাইরের হাওয়া খেতে বেরিয়ে আসে একেবারে রাস্তায়!

আজব অথচ সত্য এ ঘটনা নাকি নিউ ইয়র্কবাসীর নিত্যসঙ্গী। তবে ভাবার বিষয় হলো, কোথা থেকে এলো এত সব অ্যালিগেটর? এর পেছনেও রয়েছে মজার এক গল্প। বলা হয়, ধনী আর খানিকটা আজব নিউ ইয়র্কবাসীর খুবই আদরের পোষা প্রাণী ছিল এসব অ্যালিগেটর। তবে বিশাল আকারের এসব প্রাণীর প্রতি আকর্ষণ উঠে যাওয়ায় একসময় এদের মালিকরা এদের নিয়ে ফেলে দেয় একেবারে স্যুয়ারেজ লাইনের মধ্যে!

শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবাই অবশ্য স্যুয়ারেজ লাইনে অ্যালিগেটরের বাস করার গল্পকে সব সময় গাঁজাখোরি বলেই উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের মতে, এগুলো সবই নাকি মানুষের মনগড়া আর বানোয়াট গল্প।

তবে ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে এমন এক ঘটনা ঘটে, যা পুরো ড্রেনেজ ডিপার্টমেন্টের মাথাই ঘুরিয়ে দেয়। ম্যানহাটান শহরের ২৫ মাইল উত্তরে খাবার পানি সরবরাহকারী এক রিজার্ভারের মধ্যে ধরা পড়ে এক অ্যালিগেটর। তবে ওটা ছিল নেহাত একটা বাচ্চা অ্যালিগেটর। তাই এটা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না করলেও ঘটনাটি সবাইকে একেবারে তাজ্জব করে দেয়।

অ্যালিগেটর ধরতে বেশ পটু এমন একজন রিপোর্টারদের কাছে আবার ব্যাখ্যাও দেন এই বলে, অ্যালিগেটর ধরার জন্য রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, আর অন্ধকারের মধ্যে তাদের চোখ বরাবর আলো ফেলতে হয়! তার এ টিপ্পনি অবশ্য আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মানুষের বেশ কাজেই লেগেছে, যেখানে কিনা ধারালো দাঁতের অ্যালিগেটরদের বিচরণ আরো বেশি চোখে পড়ে! তবে আগে চামড়ার চড়া দামের জন্য প্রায়ই শিকারিদের হাতে মারা পড়ত বলে সংখ্যা ছিল সীমিত। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তাদের সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হলে হু হু করে বাড়তে থাকে সংখ্যা। এর ফল হলো হিতে বিপরীত। অ্যালিগেটরের ভয়ে এখন এখানকার মানুষের রীতিমতো আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার দশা। বিশেষ করে ১৯৬৬ সালে ফ্লোরিডার হোমোসাসা স্প্রিংসে একদল অ্যালিগেটরের বসতি গড়ার খবর অনেক দিন ধরেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে অ্যালিগেটর দর্শন মায়ামি আর অন্য দক্ষিণের শহরগুলোর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়। কখনো কারো বাড়ির পেছনের উঠানে তো আবার কখনো সোজা সুইমিং পুলেই দেখা মেলে এদের। আবার মানুষের সাধের পোষা প্রাণীগুলো খেয়েও হজম করে নেয় এগুলো।

১৯৭৭ সালের গ্রীষ্মের কোনো একদিনের ঘটনা। মায়ামির রাস্তায় আসা-যাওয়া করা মানুষরা নিজেদের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না। কেননা তাদের চোখের সামনে ব্যস্ত সড়কের মাথায় চুপটি করে বসে ছিল দুটি আস্ত অ্যালিগেটর, যেন বসে বসে ট্রাফিক লাইটের রং পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। এ দৃশ্য দেখে অনেক গাড়ির চালকই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন গাড়ির। রাস্তায় আতঙ্কিত মানুষের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা আসার আগেই অ্যালিগেটর দুটি সটকে পড়ে কাছের স্যুয়ারেজ লাইনের ভেতর।

এখনো নিউ ইয়র্ক, মায়ামি, ফ্লোরিডাসহ অনেক জায়গায়ই অ্যালিগেটররা হাজিরা দেয় মাঝেমধ্যেই। কয়েক বছর আগে যেমন ফ্লোরিডার গলফ মাঠে হঠাত্ই ঢুকে পড়েছিল একটা অ্যালিগেটর। তবে আমেরিকার এসব এলাকায় অ্যালিগেটরের উপস্থিতির ঘটনা এতটাই গা সওয়া হয়ে গেছে যে এটা নিয়ে কেউ খুব একটা মাথা ঘামায় না।   


মন্তব্য