kalerkantho


বিচিত্রা

উরুগুয়ের চক্রাকার সেতু

ফাহমিদা হক

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উরুগুয়ের চক্রাকার সেতু

পানির ওপর দিয়ে সেতু বানানোর সময় প্রকৌশলী আর স্থাপত্যবিদরা সচরাচর দূরত্ব কমিয়ে আনার ব্যাপারটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে একেবারেই যে এর ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। তারই এক দারুণ প্রমাণ উরুগুয়ের দক্ষিণ সাগরতীরের লেগুনা গার্জো সেতু। কংক্রিটের তৈরি এ সেতু তৈরি হয়েছে দুটি অর্ধবৃত্তাকার সেতু দিয়ে, যেগুলো একসঙ্গে মিলে পরিণত হয়েছে গোলাকার এক রিংয়ে। দুই পাশের দুটি শহর পসা আর মালডোনাদুকে যুক্ত করাই এ সেতুর উদ্দেশ্য। তবে তার জন্য একেবারে সোজা পথে সেতু না বানিয়ে গোল করে বানানোর পেছনে এর স্থপতি রাফায়েল ভিনোলির যুক্তিটাও বেশ ভালো। এভাবে গোলাকার পথে গাড়ি চালানোর সময় সাবধানতার বশেই চালকরা নিজেদের গতি কমিয়ে ফেলতে বাধ্য হন। আর তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। সেই সঙ্গে আস্তে গাড়ি চালানোর ফলে চারপাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও বেশিক্ষণ ধরে উপভোগ করা সম্ভব। শুধু গাড়ি চলার জন্যই নয়; বরং পথচারীদের চলাচলের জন্যও এ সেতুতে রয়েছে আলাদা পথ।

চক্রাকার এ সেতু বানানোর আগে দুই পাড়ের মধ্যে গাড়ি পারাপারের জন্য ছিল ভাসমান এক ভেলা, যাতে করে একবারে মাত্র দুটি গাড়ি পার করা যেত। তার ওপর দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই থাকত ভেলার ব্যবস্থা। ঝড়ো বাতাস কিংবা খারাপ আবহাওয়ায় তো সেটাও বন্ধ রাখা হতো। তবে লেগুনা গার্জন সেতুর ওপর দিয়ে এখন এক হাজার গাড়ি চলাচল করতে পারবে। নতুন এ সেতু হওয়ায় তাই দুই শহরের বাসিন্দাদের জন্যই যোগাযোগ রাখা সহজ হবে।


মন্তব্য