kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লেক

সবচেয়ে দূষিত জলাধার!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সবচেয়ে দূষিত জলাধার!

লেকটির নীল জল দেখে শুরুতে বিভ্রান্ত হতে পারেন। ভাবতে পারেন, পৃথিবীর অসাধারণ সুন্দর লেকগুলোর একটি এটি।

কিন্তু চমকে উঠবেন, যখন জানবেন যে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ মাত্রার দূষিত জলাধারের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি দূষিত ও তেজস্ক্রিয় এর পানি। আর এটি কাজাখস্তানের চাগান লেক।

এমন বিষাক্ত হ্রদটি কিন্তু প্রাকৃতিক নয়। আরো অনেক কিছুর মতো এই লেকের বিষাক্ত হওয়ার পেছনেও রয়েছে মানুষের হাত। সে সময় পারমাণবিক নানা রকম অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিল আমেরিকা ও রাশিয়া। খাল বা বাঁধ তৈরি আর মাটির গভীর থেকে তেল উত্তোলনের জন্য জোরেশোরে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছিল দেশ দুটি। যদিও ১৯৭৭ সালে ২৭টি পরীক্ষার পর বিষয়টির লাভজনক দিক সম্পর্কে হতাশ হয়ে আমেরিকা প্রকল্পটি বাদ দিলেও রাশিয়া সেটি চালু রাখে ১৯৮৯ সাল অব্দি। চালায় মোট ১৫৬টি পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষাগুলোর ভেতরেই একটি চালানো হয় চাগান নদীর ১৭৮ মিটার গভীরের এক গর্তে। এর ফল হিসেবে বেরিয়ে আসে ৪০০ মিটার চওড়া আর ১০০ মিটার গভীরতার একটি গর্ত। তারপর একটি খাল কেটে পানিতে ভরিয়ে লেকে রূপান্তর করা হয় জায়গাটিকে। কিন্তু  ১৯৬৫ সালে চালানো এই থার্মোনিউক্লিয়ার পরীক্ষার কারণে প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয় হয়ে ওঠে লেকের পানি। এখন এতে নেই কোনো মাছ, উদ্ভিদ বা অন্য কোনো প্রাণী। কোনো পাখিও এর ত্রিসীমানায় ঘেঁষে না। সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো, এখন চাগান খালের পানি গিয়ে মিশছে ইরতিশ নদীতে। তৈরির সময় চাগান লেক নিয়ে গর্বিত হলেও ১৯৯১ সালে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে একে নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় কাজাখস্তান সরকার। এখন পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষ নিদর্শন একটি রাসায়নিকভাবে তেজস্ক্রিয় খাল হিসেবেই পর্যটকদের কাছে বেশ পছন্দনীয় জায়গা চাগান খাল। তবে লেকের ধারে যেতে হলে যেকোনো পর্যটককে পরে নিতে হয় তেজস্ত্রিয়তা নিরোধক বিশেষ পোশাক।


মন্তব্য