kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উত্সব

আগুনে কারবার

ফাহমিদা হক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আগুনে কারবার

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দুনিয়াজুড়ে চলে নানা আয়োজন। তবে এসব আয়োজনের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের দুটি শহরের বাসিন্দাদের আয়োজন খানিকটা আলাদাই বলা চলে।

কারণটা বছরের শেষের দিকে সেফেনিংয়া শহরের নর্থ বিচের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করলেই বুঝতে পারবেন। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত সেখানে দুটি ডাচ্ দলের মধ্যে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে এ লড়াই গায়ের জোরে চলে না, চলে আগুনের শিখায়। নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি দুটি শহর সেফেনিংয়া আর ডাউনড্রপের বাসিন্দারা দুটি দলে ভাগ হয়ে বানায় দুটি বনফায়ার। দুই দলেরই উদ্দেশ্য এক—নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় বনফায়ার বানানোর কৃতিত্ব অর্জন। আর এর জন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখে না দুটি দলই।

পুরনো ঐতিহ্য আর রীতি মেনে দুই শহরের মানুষ নর্থ বিচের পাশে জড়ো করতে থাকে কাঠের টুকরো আর শুকনো সব জিনিস। কে কার চেয়ে বড় স্তূপ বানাতে পারে, তা নিয়ে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। যার খড়কুটোর ঢিবি যত বড়, তার বনফায়ারও হবে তত বড়, এটাই তো স্বাভাবিক। আর দুই দলের এ যুদ্ধ যে শুধু দুই শহরবাসীই দেখে তা নয়, পুরো নেদারল্যান্ডসের মানুষ উদগ্রীব হয়ে থাকে ফলাফল জানতে। এমনকি অন্য দেশ থেকে পর্যটকরাও ছুটে আসে বিশাল দুটি বনফায়ারের ঝলক দেখতে, বিশেষ করে আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের পর্যটকদের মধ্যে এ নিয়ে উত্সাহ বেশি। যে ঘটনা নিয়ে এত উত্সাহ, তাতে জয়ী হওয়াটা যে ভীষণ গৌরবের এক ব্যাপার, তাতে কি আর কোনো সন্দেহ আছে? আর তাই জয়ী হওয়ার আশায় দুটি দলেরই যেন আর সময় পার হয় না। অবশেষে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ মধ্যরাতে বনফায়ার দুটি জ্বালানোর আগে চলে শিল্পীদের বিভিন্ন পরিবেশনা আর আগুনের আলোকছটার নানা প্রদর্শন।

ঠিক কবে বনফায়ার জ্বালিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার এ প্রথা চালু হয়েছে, তা জানা না গেলেও অন্তত কয়েক শতক আগে যে এর শুরু তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ধারণা করা হয়, শেভেনিনজেন শহরে প্রথম ক্রিসমাস উদ্যাপনের পর বনফায়ার জ্বালানো শুরু হয় ১৮৫০ সালের দিকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নেদারল্যান্ডসের আরেক শহর দ্য হেগ পরিণত হয় নতুন বছর উদ্যাপনের কেন্দ্র হিসেবে। সে সময় কম বয়সী যুবকরা কয়েক দলে ভাগ হয়ে ক্রিসমাস ট্রি খুঁজে তাতে আগুন জ্বালিয়ে উত্সব পালন করত। অনেক সময় আবার কার আগুনের তাণ্ডব বেশি তা নিয়ে মারামারিও লেগে যেত।

মারামারি যে এখনো লাগে না তা নয়, তবে এখন এ নিয়ে নিয়ম অনেকটুকু কড়া হওয়ায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা বেশি বাড়াবাড়ি করার সুযোগ পায় না। আগে আগুনের লেলিহান শিখা উসেক দিতে গাড়ির টায়ার, ক্রিসমাস ট্রি কিংবা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এনে জড়ো করা হতো, এখন সে ব্যাপারে কড়াকড়ি নিষেধ আছে। কেবল কাঠের টুকরো ছাড়া আর কিছুই জড়ো করা যাবে না।

২০১৪ সাল থেকে শেভেনিনজেন শহরের এ প্রতিযোগিতা ডাচ্ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পেয়েছে স্বীকৃতি। গত বছর আর এর আগের বছরও এ বনফায়ার প্রতিযোগিতায় জয়ী দলের নাম ডাউনড্রপ। তারা কেবল জিতেই থামেনি; বরং ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতায় নাম লেখায় সবচেয়ে বড় বনফায়ার বানানোর স্বীকৃতি হিসেবে।


মন্তব্য