সূর্যমুখী বাড়ি-335145 | মগজ ধোলাই+ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


অন্য রকম

সূর্যমুখী বাড়ি

নাবীল আল জাহান

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সূর্যমুখী বাড়ি

স্পেনের কোস্তা ডেল সলের মার্বেইয়া নামের জায়গাটা পর্যটকদের বেশ পছন্দের। সেখানেই একটা স্প্যানিশ রিসোর্টে গোলাকার একটা বাড়ি বানানোর কাজ চলছে। আর তাই নিয়ে সবার মধ্যে তৈরি হয়েছে রাজ্যের বিস্ময়। আর হবেই বা না কেন, সানহাউস ৩৬০ নামের সে বাড়িটা তো সূর্যমুখী ফুলের চেয়ে কম কিছু নয়। বাড়িটা সারা দিনই সূর্যের দিকে মুখ করে থাকবে। সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে একটু একটু করে ঘুরতে থাকবে বাড়িটাও। যাতে সর্বোচ্চ সূর্যের আলো পাওয়া যায়। হ্যাঁ, বাড়িটাতে সৌরশক্তি দিয়েই বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হবে।

বলা হচ্ছে, এ ধরনের বাড়ি এটাই প্রথম। অবশ্য ১৯৮৪ সালে জার্মান স্থপতি রল্ফ ডিসচ এ ধরনের সৌরশক্তিসম্পন্ন আরেকটি বাড়ি বানিয়েছিলেন। সে বাড়িও সূর্যকে অনুসরণ করে ঘোরে। কিন্তু নতুন এই বাড়ির নির্মাতাদের দাবি, তাঁদের বাড়িটি ওই বাড়ির চেয়েও অনন্য। এই বাড়িতে নাকি এমন প্রযুক্তি থাকবে, সূর্যের আলো কোন অবস্থান থেকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে, তা-ও বাড়িটা হিসাব করে বের করতে পারবে। তারপর সে অনুযায়ী ঘুরবে।

এই সানহাউস ৩৬০ বাড়িটিতে সত্যিই ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যাবে। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর বাড়িটি জায়গা বদল করবে। ঘোরার সময় বাড়িটি হিসাব করে নেবে, পরের অবস্থান কোথায় হলে সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে। তারপর সেই কোণে ঘুরে যাবে। আর এই ঘোরার প্রক্রিয়া এতটাই মসৃণ যে বাড়ির ভেতরের লোকজন নাকি তা একদম টেরই পাবে না। কেউ যদি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে, তবেই কেবল টের পাওয়া যাবে। তার ওপর প্রত্যেক ঘরে ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত বিশাল বিশাল জানালার ব্যবস্থা থাকছে। তা দিয়ে যেমন প্রচুর সূর্যের আলো ঢুকবে ঘরগুলোতে, তেমনি দেখতে পাওয়া যাবে ওই সুদূর পর্যন্ত। যাকে বলে প্যানারমিক ভিউ। উপরি পাওনা, বাড়িটিতে এমনও বন্দোবস্ত থাকছে, চাইলে সারা দিন রৌদ্রোজ্জ্বল রাখা যাবে শোবার ঘর, খাবার ঘর কিংবা রান্নাঘর; যে ঘর ইচ্ছা।

বাড়িটির দুই নির্মাতার নাম হোসে কার্লোস ময়া এবং বেরত্রান্দ কোউয়ে। দুই হাজার ৬৯০ বর্গফুটের বাড়িটি বানাতে তাঁদের খরচ পড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ইউরো বা প্রায় চার কোটি ৫৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। সৌরশক্তিচালিত বলে বাড়িটি হবে অন্তত ৭০ শতাংশ বিদ্যুত্সাশ্রয়ী। ফলে কার্বন নিঃসরণও হবে ৬৮ শতাংশ কম। তবু বানানোর খরচ একটু বেশিই পড়ে যাচ্ছে। তাঁরা তাই এখন মূলত কাজ করছেন এর পরের বাড়িগুলো কিভাবে আরো কম খরচে এবং আরো জটিল নকশায় বানানো যায়, তা নিয়ে।

ময়া-ক্যু বাড়িটি বানানোর চিন্তা প্রথম করেছিলেন আরো আড়াই বছর আগে। ভাবনাটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার কাজ ধরতেও বেশি সময় নেননি। এটার কাজ শেষ হলে তাঁরা বাণিজ্যিকভাবেই এ ধরনের বাড়ি বানাতে চান। আর সানহাউস ৩৬০ তাঁদের সে পথে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। এমনিতেই ইউরোপের লোকদের কাছে সূর্যের আলো মহার্ঘ। কাজেই এমন ‘ইকো-রোটেশন’সম্পন্ন বাড়ির ভাবনা যে তাঁদের পছন্দ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর এই বাড়ি তৈরি শুরুর পর অনেকেই এমন বাড়ি বানাতে উত্সাহিত হচ্ছেন। এরই মধ্যে তাঁদের হাতে গোটা দশেক বাড়ি বানানোর কাজ জমা হয়ে গেছে। ইউরোপের বাইরের কাজও আছে কয়েকটি। স্পেনের এই বাড়ি তৈরি শেষে সামনের বছরই সেসব কাজে হাত দেওয়ার ইচ্ছা তাঁদের।

মন্তব্য