সিংহী আমি বনের রানি কেশর আছে ঘাড়ে-335142 | মগজ ধোলাই+ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


বিচিত্রা

সিংহী আমি বনের রানি কেশর আছে ঘাড়ে

ফয়সল আবদুল্লাহ

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিংহী আমি বনের রানি কেশর আছে ঘাড়ে

সিংহের বেলায় কেশর ব্যাপারটা একেবারেই পুরুষের দখলে। বহু আগ থেকে কেশর দেখে সিংহ না সিংহী, তা চেনার একটা খেলাও প্রচলিত। কিন্তু গণ্ডগোল বাধবে বতসোয়ানায় গেলে। সেখানে আছে কেশরওয়ালা সিংহী। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি আর বন্য পশু-প্রাণী যাঁদের প্রিয় বিষয়, তাঁরা বুঝতে পারছেন জীবনে এ ধরনের একটি সিংহীর দেখা পাওয়াটা লটারি জেতার চেয়ে কম কিছু নয়।

বতসোয়ানার মোরেমি গেইম রিজার্ভে থাকে কেশরওয়ালা সিংহীরা। তাদের পুরুষ ভেবে ভুল করে রিজার্ভের অন্য সিংহীরাও। রিজার্ভের ভেতর মোম্বো সাফারি ক্যাম্পে ওই কেশরওয়ালীদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত ডেরা।

কিন্তু এই সিংহীরা কেশর পেল কোথা থেকে? প্রাণীবিদরা জানালেন, এটা এক ধরনের জিনগত পরিবর্তন। তবে এক দিনে হয়নি। মৌসুমী বন্যার কারণে বতসোয়ানার এই অঞ্চলটা অন্য এলাকাগুলো থেকে আলাদা ছিল দীর্ঘ সময়। এখানকার সিংহগুলো অন্য সিংহদেরও দেখা পায়নি। নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টাতেই তাদের শরীরে তথা জিনে আসে বিশেষ কিছু পরিবর্তন। এর মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন অন্যতম। আর মানুষের দাড়ি-গোঁফের মতো কেশরও যেহেতু সরাসরি হরমোনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সিংহীদের ভেতর একপর্যায়ে আসে এ পরিবর্তন।

বতসোয়ানার একটি কনজারভেটিভ গ্রুপের প্রধান লিউক হান্টার জানালেন, এখানকার সিংহীদের ভেতর পুরুষ সিংহের বৈশিষ্ট্য প্রবল। টিকে থাকার যুদ্ধ করতে গিয়ে শারীরিক শক্তিমত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা থেকেই সম্ভবত এ পরিবর্তন আসে। আর ওই পরিবর্তন সিংহের শাবক গর্ভে থাকা অবস্থাতেই কার্যকর হয়। তাই এখানে সিংহীদের জন্মের সময়ই কেশর থাকে।

তবে মজার তথ্যটা পাওয়া গেল এমা নামের এক সিংহীর অস্ত্রোপচারের পর। দেখা গেল, সিংহীগুলোর প্রত্যেকের জরায়ুতে রয়েছে পুরুষ সিংহের জননকোষের কিছু অংশ। জরায়ু ফেলে দেওয়ার পর দেখা গেল, ওই সিংহীর কেশরগুলো ধীরে ধীরে ঝরে যাচ্ছে। একপর্যায়ে স্বাভাবিক রূপে ফিরে যায় ওই সিংহী।

মন্তব্য