kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

দরজার ওপাশে

ভাসমান শহর

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হ্রদ কাস্পিয়ান সাগরের মাঝে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর মানব বসতি। তেল উত্তোলনের পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্মে তৈরি করা কৃত্রিম দ্বীপের ওপর প্রায় তিন হাজার মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে এখানে। লিখেছেন শাদমান আলম

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভাসমান শহর

‘নেফত দেরসায়ারি’ বা ‘অয়েল রকস’ নামে পরিচিত এই দ্বীপগুলোর অবস্থান আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। হ্রদের কিনারা থেকেও প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে এগুলো।

আজারবাইজান বহু আগে থেকেই তেল উত্পাদনের জন্য বিখ্যাত। রাশিয়ার অধীনে থাকার সময় এ অঞ্চল থেকে প্রচুর তেল উত্তোলিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আজারবাইজান ১৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ

করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জরিপকারীরা কাস্পিয়ান সাগরের তলদেশে বিপুল খনিজ তেলের সন্ধান পায়। সেখানে গড়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম ‘অফ-শোর অয়েল রিগ’ বা সমুদ্রের তলদেশ থেকে তেল উত্তোলন করার প্ল্যাটফর্ম—এভাবেই জন্ম হয় এই ভাসমান শহরের।

প্রথম তেল উত্তোলন শুরুর ১০ বছরের মাথায় এখানে ৩০ কিলোমিটার ব্যাসের বৃত্তাকার এলাকায় দুই হাজারেরও বেশি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো আবার কাঠের পাটাতনের ওপর দাঁড়ানো লোহা আর কাঠের তৈরি সেতু দিয়ে একটি আরেকটির সঙ্গে সংযুক্ত। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আটতলা উঁচু অ্যাপার্টমেন্ট, পানীয় তৈরির কারখানা, ফুটবল মাঠ, সিনেমা হল, সবজি বাগান এমনকি পার্কও গড়ে তোলা হয়েছে। এভাবে এটি রূপ নেয় একটি ভাসমান শহরে। অয়েল রিগগুলো যখন সচল ছিল, তখন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক এখানে থাকত।  

 

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে কদর কমতে থাকে এর। মজুদ তেলের পরিমাণের পাশাপাশি শ্রমিকসংখ্যাও কমে যায়। বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মই পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দেখাশোনার অভাবে এর অনেক অংশই কাস্পিয়ান সাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এখনো এর অনেক অংশ টিকে আছে। বসতি আছে হাজার তিনেক লোকের। আজারবাইজান সরকার অবশ্য এ অসাধারণ শহরটিকে একরকম গোপন করে রেখেছে। এখনো তাঁদের কাছে এটা সংরক্ষিত এক এলাকা। বিদেশিদের সাধারণত প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি গুগল ম্যাপেও এর অবস্থান সঠিকভাবে দেখা যায় না।


মন্তব্য