বধির গ্রাম-332551 | মগজ ধোলাই+ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭

অন্য রকম

বধির গ্রাম

আনিকা জীনাত

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বধির গ্রাম

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু অনেকেরই অজানা বালির বোংগালা নামের আজব এক গ্রামের কথা। এখানকার প্রায় তিন হাজার লোক বাক বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী।

এখানকার প্রত্যেকেই পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করে নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা কাতা কোলক। তাই এই গ্রামের লোকেরা কোলক নামেই বেশি পরিচিত। অনেকের ধারণা, এই গ্রামে বধিরের সংখ্যা আগে আরো বেশি ছিল। বধির বা বোবা না হয়েও গ্রামের প্রতিটি মানুষই হাতের ইশারার এই ভাষাকে তাদের অন্যতম প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। এই সাংকেতিক ভাষা টিকে আছে কয়েক শ বছর ধরে।

ভূ-প্রকৃতির কারণে ডিএফএনবি৩ নামের একটি জিন এই এলাকার মানুষের শরীরে ঢুকে গেছে। আর তাদের মধ্যে এই জিনের অস্তিত্ব আছে প্রায় সাত প্রজন্ম ধরে। বধির মা-বাবার স্বাভাবিক বাচ্চা হওয়াও যেমন অস্বাভাবিক নয়, তেমনি সম্পূর্ণ সুস্থ-স্বাভাবিক মা-বাবার বাচ্চাও বধির হয়ে জন্ম নেওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা এখানে। তবে সবারই এই সাংকেতিক ভাষা জানা থাকায় ভাব আদান-প্রদানে সমস্যা হয় না। গ্রামের বাইরে এই ভাষায় যোগাযোগ করতে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরা কোলকদের নিজস্ব এই ভাষা বুঝতে পারে না।

অবশ্য বধিরতাকে বোংগালা গ্রামের বেশির ভাগ অধিবাসীই অভিশাপ বা অসুস্থতা হিসেবে নয় বরং দেবতার আশীর্বাদ হিসেবে মনে করে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, বধিরদের দেবতা হলো ‘দেয়া কোলক’। অনেকেই ধারণা করে, দেবতা কোলকের কবর এই গ্রামেই কোথাও আছে। তিনিই সবাইকে দেখেশুনে রাখছেন। অবশ্য এ গ্রামের এত বেশিসংখ্যক মানুষের বধির হওয়া নিয়ে আরেকটি কিংবদন্তিও প্রচলিত আছে। একবার দুই জাদুকর নাকি তাদের অলৌকিক শক্তির লড়াইয়ের একপর্যায়ে একে অন্যকে বধির হওয়ার অভিশাপ দিয়ে বসে। দুর্ভাগ্যবশত তখনই তাদের সেই অভিশাপ ফলে যায়। তারপর থেকেই নাকি এই গ্রামে বধিরতার শুরু।

বধির মানুষগুলোর জন্য এই গ্রামে স্কুল থাকলেও শিক্ষিত কোলকের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ। তবে নতুন প্রজন্মের কোলকরা এখন আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষাও শিখে নিচ্ছে। কোলকদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষক ও বধির পর্যটকরা আসেন। আর গ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে কোলকদের নাচ। কানে শুনতে না পারলেও অন্যান্য কাজের মতো নাচের মুদ্রাও তারা ঠিকই মেলাতে পারে।

মন্তব্য