kalerkantho

ফেসবুক পুলিশকে সাহায্য করছে করুক, জানাতে হবে ব্যবহারকারীদেরও

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুক পুলিশকে সাহায্য করছে করুক, জানাতে হবে ব্যবহারকারীদেরও

ফেসবুক বারবার সতর্কতা জারি করছে। এরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ব্যবহারকারীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্যই এটি করছে তারা। ব্যবহারকারীর ওয়াল থেকে গোপন তথ্য বের করে এনে পরে ব্যবস্থা নিচ্ছে- যেগুলো ওয়ারেন্ট জারি ছাড়া আদৌ করা যায় না।

দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি  যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট গড়ে তুলে ডামি ফেসবুক প্রোফাইল নেটওয়ার্ক। প্রতারিত করতে  পেইজে দ্য  ইউনিভার্সিটি অব ফারমিংটন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিতে অভিবাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।   তাতে আগ্রহও দেখান অভিবাসী। এরপরই অভিযানে নামেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। অভিযানে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগকারী ১৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, কাস্টমস এবং বর্ডার সুরক্ষা বিভাগও প্রাইভেসি ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট জারি করে। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলা অ্যাকাউন্ট গোপন করতে তদন্তকারীদেরও উৎসাহিত করছে।

একপর্যায়ে, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকারী সংগঠন 'ব্লাক লিভস ম্যাটার' সদস্যদের ওপর নজরদারি করতে ব্যবহার করা ভুয়া অ্যাকাউন্টের জন্য  মেমফিস পুলিশ বিভাগকে ধরে ফেসবুক। পরে  ফেসবুক এর আইন প্রয়োগকারী নির্দেশিকাগুলোতে নতুন ভাষা যোগ করে যা এর আগে ছিল না।

এ সময় আপত্তিজনক অ্যাকাউন্টগুলো সরিয়ে দেয় ফেসবুক। একইসঙ্গে মেমফিস পুলিশ যেন এটি পুনরায় না করে তার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা পাঠায়।

যাইহোক, ফেসবুক দোষীদের হাতেনাতে ধরতে  প্রতিটি সংস্থার কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। সম্প্রতি এটি ইলেক্ট্রনিক ফ্রন্টায়ার ফাউন্ডেশন (ইএফএফ)-এর একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। অপরাধ তদন্তে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আদালতের রেকর্ড প্রকাশিত হওয়ার পর সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগকে এর মুখোমুখি করেছিল। 

ইএফএফ এখন যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সংস্থার ভুয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে চারটি পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে:

১। নিয়মিত ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টের অংশ হিসেবে, ফেসবুকের উচিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জাল / ছদ্মনামে খোলা অ্যাকাউন্টগুলোর সংখ্যা, কোন সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল- তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

২। যখন কোনো জাল / ছদ্মনামে খোলা অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়, ফেসবুকের উচিত ব্যবহারকারী এবং গোষ্ঠীগুলোর কাছে সতর্কতা জারি করা যে, তারা ওই অ্যাকাউন্ট সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করেছেন।

৩। ফেসবুকের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারগুলোর সংশোধিত শর্তাবলী আরো  সংশোধন করা। যাতে এটি স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করা যায় যে শর্তাবলীতে সম্মতি দিয়ে সংস্থাটি প্ল্যাটফর্মে জাল / ছদ্মনামে খোলা প্রোফাইল পরিচালনা না করার বিষয়ে একমত। ফেসবুকে তাদের পদ লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে, কিন্তু তারা যখন এটি করে তখন ফেসবুক সান্তা ক্লারা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

৪। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার প্রসঙ্গে নিজস্ব নীতি পর্যালোচনা করা উচিত। যেহেতু, সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য সংশোধিত শর্তাদি লঙ্ঘন করে জাল / ছদ্মনামে খোলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অ্যাকাউন্ট বিষয়ে লিখিত নীতি রয়েছে, তাই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এজেন্সি পৃষ্ঠায় বিজ্ঞপ্তি সংযুক্ত করা উচিত। 

সূত্র : ইএফএফ 

মন্তব্য