kalerkantho

ডান হাত হারিয়ে বাম হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে শিশুটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডান হাত হারিয়ে বাম হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে শিশুটি

আগে ডান হাতে দিব্যি লিখতে পারত সে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় ডান হাত কাটা যাওয়ার পর এখন বাম হাতেই ভরসা। সে কারণে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল, ওষুধ খাওয়া সেরে বই নিয়ে বসছে সে। 

তবে পড়ার থেকে বেশি সময় কাটছে লেখার ব্যাপারে। রুল টানা খাতায় ঘণ্টাখানেক লেখার পরে সে খুলে বসছে আঁকার খাতা। আঁকাবাঁকা রেখায় তাতেই ফুটে উঠছে আম, বেগুন, গোলাপ। কখনো আবার একটি মেয়ের ছবি!

ভারতের গোবরডাঙার মেয়ে  পৃথা সরকার এখন বাম হাত দিয়ে লিখে শিক্ষিত হতে চায়। সে জানায়, কাকা আমাকে বাম হাতে লেখা শিখিয়ে দিয়েছে। নিজেকে চেষ্টা করতে বলেছে। যত চেষ্টা করব, তত ভালো হবে। এখন আমি আঁকতেও পারছি!

শিশুটির কথা শুনে পাশে দাঁড়ানো ফুফু তৃপ্তি মণ্ডলের চোখ ভিজে যায়। তিনি বলেন, এইটুকু মেয়ে, এভাবে কত দিন পারবে? কাঠের হাত কিনে দেওয়ার টাকাও নেই আমাদের।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্কুলে যাওয়ার পথে পৃথাদের অটো উল্টে যায়। পৃথার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল সেই অটোয়। ওই দুর্ঘটনার কিছু আগেই ‘ড্রাইভারকাকু’র পাশে বসবে বলে চালকের ডান দিকে গিয়ে বসেছিল পৃথা। একটি কুকুর সামনে পড়ে যাওয়ায় চালক জোরে ব্রেক কষলে অটোটি উল্টে যায়। কনুই থেকে কেটে গিয়ে ঝুলতে থাকে পৃথার ডান হাত।

গোবরডাঙা এবং বারাসতের তিনটি হাসপাতালে ঘোরার পর মেয়েটিকে কলকাতার হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকরা। অ্যাম্বুল্যান্সের চালক রাস্তা না চেনায় সমস্যায় পড়ে পৃথার পরিবার। ইউ এন ব্রহ্মচারী স্ট্রিটের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে কলকাতার রাস্তায় গুরুতর আহতকে নিয়ে ঘুরতে থাকেন চালক। পরে ই এম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পৃথাকে। সেখানেই অস্ত্রোপচারের পরে ডান হাতটি কাটা যায় পৃথার।

হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পরে মেয়েকে শান্ত করতেই নাজেহাল হতে হয়েছিল পৃথার পরিবারকে। সদ্য হাত কাটা যাওয়া মেয়ে চেঁচাতে শুরু করে, আমার হাতটাই তো আর নেই। লিখব কী করে?

সেই সময়ে পৃথার চাচা তপন সরকার বাম হাতে লেখা শিখিয়ে দেওয়ার কথা বলে শান্ত করেন মেয়েকে। পৃথার বাবা স্বপন সরকার নির্মাণ শ্রমিক। পৃথার এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। তবে বাবা-মায়ের টানাটানির সংসারে ভাইয়ের মেয়েকে রাখতে চাননি পৃথার ফুফু তৃপ্তি। 

হাসপাতাল থেকে নিজের বাড়িতেই পৃথাকে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে হাতের জন্য এখনো সে স্কুলে যেতে পারছে না। লেখা আর ছবি আঁকার পাশাপাশি প্রিয় কার্টুন দেখে সময় কাটে তার। 

মন্তব্য