kalerkantho

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

একজনের বর্জ্য যখন অন্যজনের সম্পদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০৯:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একজনের বর্জ্য যখন অন্যজনের সম্পদ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেন বেড়েই চলেছে। কিন্তু বাতিল হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার একটা বড় চ্যালেঞ্জ। জার্মানির এক কোম্পানি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের কাজে সফল ভূমিকা পালন করছে।

ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মধ্যে সম্পদ

একজনের জঞ্জাল অন্য আরেক জনের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।   শাইডেআনস্টাল্ট কোম্পানির  প্রধান ডোমিনিক লখমান দামী ধাতুর ব্যবসা করেন। শিল্পপতি হিসেবে তিনি পুরানো সার্কিট বোর্ড কেনেন। ফেলে দেওয়া হাজার হাজার ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের মধ্য থেকে তিনি তামা, রূপা ও সোনা সংগ্রহ করেন। ডোমিনিক বলেন, ‘‘ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মধ্যে প্রসেসারই সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। একটি কনটেনারের মধ্যে ৬০,০০০ ইউরো মূল্যের দামী বস্তু থাকতে পারে।''

জার্মানি ও প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে এই জঞ্জাল আসে। ডোমিনিক লখমান তাঁর সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেন। মুনাফা নিশ্চিত করতে তাঁর বিশাল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্যের প্রয়োজন। ডোমিনিক লখমান বলেন, ‘‘প্রত্যেক ইলেকট্রনিক উপাদানের মধ্যে মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম পরিমাণ দামি ধাতু থাকে। অর্থাৎ লাভজনক মাত্রার রূপা, সোনা বা প্যালেডিয়াম পেতে হলে কয়েক টন পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য রিসাইকেল করতে হয়।''

নির্ধারিত প্রক্রিয়া

সি আর রিসাইক্লিং কোম্পানি তাঁর অন্যতম বাণিজ্যিক সহযোগী। তারা পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক পণ্য রিসাইক্লিং-এর কাজে বিশেষভাবে পারদর্শী। জার্মানিতে এক্ষেত্রে কড়া মানদণ্ড চালু আছে।

প্রথম ধাপে জঞ্জালের মধ্য থেকে প্লাস্টিক, শিট মেটাল, কেবেল – সবকিছু আলাদা করতে হয়। প্রায় সবটাই এভাবে রিসাইকেল করা সম্ভব। তবে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের মতো উচ্চ মানের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দামী বস্তু পাওয়া যায়। ডোমিনিক লখমান বলেন, ‘‘এটা হলো সাধারণ কম্পিউটার মাদারবোর্ড। কাটা বা গলানোর সময় যাতে কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ব্যাটারি খুলে নিতে হয়। কিলোগ্রাম-প্রতি দেড় ইউরো পাওয়া যায়, তাই না?''

জবাবে সি আর  রিসাইক্লিং কোম্পানির ব্যার্ন্ড হাসেনমায়ার বলেন, ‘‘সেটা প্রায় ঠিক কথা। এই প্লাগ-ইন বোর্ডের মধ্যে সুন্দর সোনায় মোড়া যন্ত্রাংশ রয়েছে, কোনো ক্ষতিকারক পদার্থও নেই। এক্ষেত্রে কিলো-প্রতি ২ ইউরো ৮০ সেন্ট পাওয়া যেতে পারে।''

সে কারণে কোম্পানির পক্ষে হাতে করেই কম্পিউটার খোলার কাজ লাভজনক। কেবেল, হাউসিং ও সার্কিট বোর্ড সাবধানে আলাদা করতে হয়।

জটিল প্রক্রিয়া ও বিপদের ঝুঁকি

পুরানো টিউব-সহ টেলিভিশন ও মনিটর অনেক কম মূল্যবান, যদিও তার মধ্যে অনেক তামার তার রয়েছে। কিন্তু সেগুলির মধ্যে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো অনেক টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। পানীয় জলের নিরাপত্তার খাতিরে জার্মানিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগুলি ফেলে দিতে হয়।

হার্ড ড্রাইভের জন্য ছোট আকারের শ্রেডার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। গ্রাহকরা হার্ড ডিস্কের তথ্য নিশ্চিহ্ন করে দিতে চান।

বিশেষ প্লান্টে উপাদানগুলি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তারপর কপার স্মেলটার যন্ত্রে ধাতুর টুকরো আলাদা করা হয় এবং গলানো হয়। ব্যার্ন্ড হাসেনমায়ার বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বেই এই বাজার রয়েছে। তাই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তেই যন্ত্র খোলা ও প্রক্রিয়াজাতকরণরের কাজ সম্ভব।''

ডোমিনিক লখমান বর্জ্য পণ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। তিনি সরবরাহকারীদের বর্জ্যের ওজন ও কাচামালের চালু বাজারদর অনুযায়ী অর্থ দেন। কোম্পানির ওয়েবসাইটে তারা মান ও মূল্যের রদবদল দেখে নিতে পারেন।

সরবরাহে কোনো ঘাটতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতি বছর চার কোটি টনেরও বেশি ইলেকট্রনিক বর্জ্য সৃষ্টি হয়। তার রিসাইক্লিং-এর মাধ্যমে শুধু অর্থের সাশ্রয় হয় না, পরিবেশ ও মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ সাহায্য করে।

মন্তব্য