kalerkantho

পেশাদারিত্ব বাড়ছে ভোটের দেয়াল-লিখনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৯ ২১:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পেশাদারিত্ব বাড়ছে ভোটের দেয়াল-লিখনে

ভোট যতই নিকটবর্তী হয়ে আসে, তাদের খুশিও বেড়ে যায়। সকাল থেকেই আসতে থাকে ফোন। কদরও বেড়ে যায় তাদের। সেই সঙ্গে বায়না ধরার জন্য বারবার দেখা করেন অনেকেই। কাজ শেষে দিনের দিনই নগদ পারিশ্রমিক বুঝে পান। ৫০০ থেকে ৭০০, হাজার বা তারও বেশি টাকা।

তারা পেশাদার দেয়াল-লিখিয়ে। সারা বছর যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ভোটের ঢাকে কাঠি পড়লেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মেলে বাড়তি রোজগারের হাতছানি। রং-তুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তারাও।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জাঙ্গিপাড়ার রসিদপুরের অমল কুণ্ডু। নাওয়া-খাওয়ার সময় পাচ্ছেন না। স্ক্রিন-প্রিন্টিংয়ের কাজ করেন সারা বছর। এখন দেয়াল-লেখার ব্যস্ততায় সেই কাজ আপাতত বন্ধ। সেই ১৯৯৮ সাল থেকে ভোটের দেয়াল-লেখার কাজ করছেন। শুধু রসিদপুরেই নয়, ভোটের দেয়াল লিখতে তার ডাক পড়ছে শহরাঞ্চলেও।

অমল বাবু বলেন, শহরের দিকে রোজগারটা কিছুটা ভালো হয়। যারা রং নিজেরা কিনে দেন, সে ক্ষেত্রে তাদের শুধু লিখে দেওয়াটাই আমার কাজ। আর যারা রং সমেত পুরো বরাত দেন, তাদের থেকে বেশি টাকা মেলে। রঙের দাম অনেক। লেখার কাজে গড়ে দিনে ৫০০ টাকা রোজগার হয়। এটা শুধু মজুরি। রং কিনতে হলে মজুরির সঙ্গে রংয়ের দামটা যোগ করি।

অমল একা কাজ করেন। চণ্ডীতলার পশুপতি দাসের আবার দু’জন সহযোগী রয়েছে। পশুপতি পেশায় অঙ্কন-শিক্ষক। তিনিও এখন সেই কাজ বন্ধ রেখে দেয়াল-লেখায় মেতেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে এই কাজে তার অভিজ্ঞতা। শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের দেয়াল-লেখা দিয়ে। এবার বিজেপির প্রার্থীর নাম ঘোষণার দিন থেকেই তার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। 

পশুপতি বলেন, বহু জায়গা থেকে ডাক আসে। কয়েক বছর আগের ভোটে গরলগাছা, নৈটি, উত্তরপাড়ায় গিয়েও দেয়াল লিখে এসেছি। রাজনৈতিক দলের চাহিদা মতো কাজ করি।

তৃণমূল নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, দলের ছেলেরা যতই লিখুক, পেশাদারদের দিয়ে দেয়াল লেখালে অনেক দ্রুত আর ভালো কাজ হয়। বিজেপি নেতা স্বপন পাল অবশ্য বলেন, আমাদের প্রার্থী ঘোষণা না-হলেও কর্মীরা অনেক জায়গাতেই দেয়াল দাগিয়ে রেখেছেন। না হলে দেয়াল দখল হয়ে যাবে। ঘোষণা হলে দেয়াল লেখা শুরু হয়ে যাবে। আমাদের দলে এক সময় দেয়াল লেখার কাজ শেখানোর জন্য কর্মীদের কর্মশালা হত।

মন্তব্য