kalerkantho


কেমন আছেন ভেনেজুয়েলা ছেড়ে আসা নারীরা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৩৪



কেমন আছেন ভেনেজুয়েলা ছেড়ে আসা নারীরা?

মানুষের মুখাবয়ব বডডো বেয়াড়া। অবলীলায় প্রকাশ করে দেয় অন্তর্গত গোপন অবস্থাও। এই যেমন ভেনেজুয়েলা সংকটের পুরো অবস্থাই যেন দেশটি ছেড়ে আসা নারীদের মুখে।
 
কণ্ঠস্বরে যন্ত্রণা আর চোখে বিষণ্নতা নিয়ে এখন কথা বলছেন এসব নারীরা। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান কীভাবে তাঁরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন যা একসময় ছিল কল্পনারও বাইরে। এখন তাঁদের শেষ উপায় হিসেবে শরীর বিক্রি করতে হচ্ছে।
 
যেসব নারীকে এমন ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে মারিজা (ছদ্ম নাম) তাঁদেরই একজন। পেশায় নার্স এই নারী দুই বছর আগে ভেনেজুয়েলা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কলাম্বিয়ায় আসেন। বাড়িতে ফেলে এসেছিলেন মা আর তিন সন্তান। পেশাদার কর্মীদের সঙ্গে বেশিরভাগ অভিবাসন প্রত্যাশীর মতো তিনিও আশা করেছিলেন নিজের ক্ষেত্রে কোনো চাকরি খুঁজে পাবেন। কিন্তু মুখের সামনেই যখন চাকরির দরজাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে দেখেন এমনকি ক্লিনার হিসেবে একটি কাজও যখন অসম্ভব হয়ে ওঠে তখন তিনি নিজেই একটি অসম্ভব সিদ্ধান্ত নেন।
 
পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত হয়ে পড়ার বিষয়ে মারিজা বলেন, 'কেবল আজ নয় আগামীকালও একজনকে পেতে হবে। এটি মোটেও সহজ নয় এবং বিপজ্জনকও। কিন্তু একজন মা হিসেবে, আপনি ভাবতে পারবেন না - আপনি তাই করছেন যা আপনাকে করতেই হবে।'
 
মারিজার কণ্ঠে হতাশা দানা বাঁধে যখন তিনি বলছিলেন শিক্ষাজীবন এবং শিক্ষাজীবন শেষে কাজ না পাওয়ার বেদনার কথা। তিনি বলেন, 'এটা হতাশাজনক কারণ আপনি বুঝতে পেরেছেন যে আপনি কাজ করেছেন। জীবনের পাঁচ বছর নার্সিং পড়ার পেছনে ব্যয় করেছি, প্রস্তুত হয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে যে পাঁচ বছর আমি নষ্ট করেছি কারণ আমি এখন এটি প্রাকটিস করতে পারছি না'- কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। 
 
মারিজা জানান, পড়াশুনা শেষে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন একটি ক্যারিয়ার আর স্বপ্ন নিয়ে। 
 
একজন সার্টিফাইড নার্স হিসেবে, মারিজা ১৫ দিন কাজ করে কেবল এক ব্যাগ ময়দা কেনার অর্থ আয় করেন। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন, জানেন নিজের বাচ্চাদের জন্য ডায়াপারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসেরও কোনো নিশ্চয়তা নেই দেশে।
 
মারিজা বলেন, 'আমরা সবসময় শ্যাভেজের জন্য ভোট দিয়েছি। কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলার মানুষ নিকোলাস মাদুরোকে সমর্থন করে আসছেন যিনি তাঁর পূর্বসূরী হুগো শ্যাভেজের মতো সামাজিক প্রোগ্রামগুলোর অর্থের জন্য তেল সম্পদ ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু যখন তেলের মূল্য হ্রাস পেতে শুরু করে এবং অর্থনীতির পতন ঘটে তখন অনেকে রাস্তায় নেমে আসে।
 
মারিজা রাস্তায় নেমে আসা মানুষদেরই একজন। তাঁর পুরো পরিবার শ্যাভেজকে সমর্থন করতো। তিনি বলেন, 'আমরা সবসময় শ্যাভেজের জন্য ভোট দিয়েছি।' দেশটির বর্তমান এই সংকটের জন্য সাবেক ও বর্তমান নেতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, 'তাঁদের অব্যবস্থাপনার জন্য আজকের এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।' 
 
মারিজা বলেন, 'ভেনেজুয়েলায় অতীতে কোনো ক্ষুধা ছিল না, অভাব ছিল না, কোন বিচ্ছেদ ছিল না। তিনি ব্যাখা করে বলেন, যখন সবকিছুই ভালো ছিল, তখন মানুষ দেশের বাইরে গেছে ছুটি কাটাতে, প্রয়োজনীয়তার জন্য নয়।' 
সূত্র : সিএনএন 


মন্তব্য