kalerkantho


ঘুষখোরদের খাই খাইতে অতিষ্ঠ, চাকরি ছেড়ে সন্ন্যাসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:২৬



ঘুষখোরদের খাই খাইতে অতিষ্ঠ, চাকরি ছেড়ে সন্ন্যাসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

১০ ফ্রেবুয়ারি দীক্ষা; তবে তার আগে চলছে ধর্মীয় নানান আচার ছবি: এনবিটি

ভারতের সর্বপশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের সুরাট শহরের জৈন ধর্মাবলম্বী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কদম দোসি হীরা ব্যবসায়ীর ছেলে। ২৫ বছর বয়সী এই যুবক মাসে বেতন পেতেন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। 

তবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শত শত মানুষের উপস্থিতিতে তিনি দীক্ষা নেবেন সন্ন্যাস গ্রহণের। তিনি চাচ্ছেন ভবিষ্যতে একজন নিষ্ঠাবান জৈন ভিক্ষু হতে। 

এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বিষয়ে কদমের  বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার সময় আমাকে শহরে সরকারি অফিসগুলোয় ফাইল পাস করাতে যেতে হতো হরদম। সেখানে কর্মকর্তারা আমাকে ঘুষ দিতে বাধ্য করতো। 

একবার এমন হয় যে একদিনে পাঁচজন ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়েছিল। সেই দিনটি খুব-ই দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি। আমি বিস্মিত হয়ে যাই এটা ভেবে যে ফাইল পাস করাতে যদি অবৈধ পথ ধরতে হয় তবে এই শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ কিসের জন্য!

তিনি আফসোসের সুরে বলেন, প্রচুর পরিশ্রম করে লেখাপড়া করেছি এই আশায় যে সমাজের সেবা করবো আর মরচে ধরা সিস্টেমটা বদলে দেব। কিন্তু পড়াশোনা শেষে এক প্রাইভেট ফার্মে সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) হিসেবে কিছুদিন কাজ করার পর বুঝতে পারলাম একদিন খোদ আমাকেও এই গলদ রাস্তার পথিক হতে হবে। এজন্য আমি এধরনের সব অপকর্ম থেকে নিজেকে দূরে রাখতে আলাদা পথ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেই।

কদম বলেন, ছোটবেলা থেকেই জৈন ধর্মের বুনিয়াদি বিষয়গুলোর অনুসারী থাকলেও কখনো সন্ন্যাসী হওয়ার চিন্তা মাথায় ছিল না। আমার একজন গার্লফ্রেন্ডও ছিল এবং এসব নিয়ে আমি সাধারণ জীবন-যাপন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে একবছর চাকরি করার পর জীবনের সত্যিকার শান্তির খোঁজ শুরু করি। আর সে সূত্রেই সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই। 

নবভারতটাইমস.কম জানায়, কদম যখন চাকরি ছাড়েন তখন তার বার্ষিক বেতন ছিল ৬ লাখ রুপি। আর তার বাবা হীরে ব্যবসায়ী প্রভু যোসির বার্ষিক টার্নওভার দেড় কোটি রুপি। উচ্চমাধ্যমিকে প্রায় ৯০% নম্বর নিয়ে পাস করা কদম ২০১৪ সালে সিএ কোর্স সম্পন্ন করেন।



মন্তব্য